নলকায় স্থানীয়দের স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থায়নে অচল রাস্তা সচল
দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক অবশেষে এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রম ও অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়েছে।ফলে বহুদিনের ভোগান্তির অবসান ঘটেছে এবং স্বস্তি ফিরে এসেছে সাধারণ মানুষের চলাচলে।
জানা যায়,সলঙ্গা থানার নলকা ইউপির এরান্দহ মন্টু মাস্টারের বাড়ি হতে বোয়ালিয়ার চর বাজার নুরুর পুকুর পাড় সংলগ্ন (ভূইয়া বাড়ি) সড়কটি গত কয়েক বছর ধরে জনগনের চলাচলে বেহাল দশায় ছিল।বর্ষা-বৃষ্টি মৌসুমে রাস্তা ভেঙ্গে পুকুরে পড়ে ও কাদায় চলাচল প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ত।আর শুষ্ক মৌসুমে ধুলাবালিতেও দুর্ভোগ বেড়ে যেত।বোয়ালিয়ার চর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়,শাহজাহান আলী কিন্ডারগার্টেন স্কুল,বোয়ালিয়ার চর দাখিল মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন স্কুলগামী শিক্ষার্থী,রোগী বহনকারী যানবাহন এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য পরিবহনে নিয়মিত বাধার সৃষ্টি হতো।
ভুক্তভোগী স্থানীয় বাসিন্দারা জানান,একাধিকবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করা হলেও কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়ে এলাকাবাসী নিজেরাই উদ্যোগ গ্রহণ করেন।
গত কয়েকদিন ধরে এরান্দহ সরকার বাড়ি,খন্দকার বাড়ি,ভুইয়াবাড়ি এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ,তরুণ সমাজ ও সাধারণ জনগণের অংশগ্রহণে একটি সভার মাধ্যমে রাস্তা নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।এরপর চাঁদা সংগ্রহ,স্বেচ্ছাশ্রম এবং স্থানীয়ভাবে বাঁশ,কাঠ ও নির্মাণসামগ্রী জোগাড় করে কাজ শুরু করা হয়।
প্রায় দুই সপ্তাহের নিরলস প্রচেষ্টায় বাঁশ,কাঠ ও জিআই তার দিয়ে পাইলিং করে বেকু মেশিন দিয়ে মাটি ভরাটে অবহেলিত রাস্তাটি সমতল করে চলাচলযোগ্য করে তোলা হয়েছে।নির্মাণকাজে নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সকলেই সহযোগীতা করেন,যা এলাকায় একতা ও সহযোগীতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দা মনিরুজ্জামান মন্টু মাস্টার,সাইফুল ইসলাম বাদশা,আব্দুর রশিদ সরকার,জুলহাস,কামরুল ইসলাম খন্দকার,আবুল কাশেম,ফয়াজ ভুইয়া বলেন,
“আমরা বহুদিন ধরে যাতায়াতে কষ্ট পাচ্ছিলাম।কেউ এগিয়ে না আসায় নিজেরাই রাস্তার কাজ শুরু করি।এখন অন্তত স্বাভাবিকভাবে চলাচল করতে পারবো।”
এদিকে শিক্ষার্থীদের অভিভাবকরাও সন্তোষ প্রকাশ করে বলেন,এখন তাদের সন্তানরা নিরাপদে স্কুলে যেতে পারবে।
স্থানীয়দের দাবী,সাময়িক সমাধানের বদলে নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন দ্রুত এই সড়কটি হেরিং বোন্ড বা স্থায়ীভাবে পাকা করে দেয়।তারা আরও জানান,জনগণের উদ্যোগ প্রশংসনীয় হলেও টেকসই উন্নয়নের জন্য সরকারি সহায়তা অতীব জরুরী।৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বর আব্দুর রাজ্জাক বলেন,ইতিপূর্বে উক্ত রাস্তায় কর্মসূচীর শ্রমিক দিয়ে মাটির কাজ করেছি।
রাস্তাটি পুকুর সংলগ্ন হওয়ায় বৃষ্টিতে মাটি ধ্বসে যায়।নলকা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান রেজাউল করিম বলেন,উল্লেখিত রাস্তায় এলাকাবাসীর জনদুর্ভোগের কথা জেনেছি।উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করে সমাধানের চেষ্টা করা হবে।এলাকাবাসীর স্বেচ্ছাশ্রমে রাস্তা নির্মাণ,এমন উদ্যোগ প্রমাণ করেছে—সমস্যা সমাধানে সম্মিলিত প্রচেষ্টাই পারে বড় পরিবর্তন ঘটাতে।