বিএনপি নেতা মতিন হত্যার ২৯ মাস: বিচার চেয়ে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ দাবি
বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বিশালপুর ইউনিয়ন বিএনপি নেতা আব্দুল মতিন (৬০) হত্যাকাণ্ডের ২৯ মাস অতিবাহিত হলেও জড়িতদের গ্রেপ্তার না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। এ ঘটনায় দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপ কামনা করা হয়েছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) দুপুরে শেরপুর উপজেলা প্রেসক্লাব মিলনায়তনে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে নিহতের নাতি মাহিন এ দাবি জানান। তিনি বলেন, তার নানার হত্যাকারীদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি।
লিখিত বক্তব্যে মাহিন জানান, ২০২৩ সালের ২৩ নভেম্বর আব্দুল মতিনকে নির্মমভাবে কুপিয়ে হত্যা করা হয়। পরদিন ২৪ নভেম্বর সকালে ঝিনাইগাড়ী পুকুরপাড়ের একটি ধানক্ষেত থেকে পুলিশ তার রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার ২৯ মাস পার হলেও এখনো হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটন কিংবা কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বরং তদন্তের নামে তার মামা মিলন রহমানকে বারবার থানায় ডেকে মানসিকভাবে হয়রানি করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
নিহতের পরিবারের অভিযোগ, রাজনৈতিক পরিচয়ের কারণেই আব্দুল মতিনকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার আগে ও পরে হয়রানির শিকার হতে হয়েছে। তারা জানান, হত্যার মাত্র আট দিন আগে, ২০২৩ সালের ১৫ নভেম্বর, তৎকালীন পুলিশ প্রশাসন একটি গায়েবি মামলায় মতিনকে ৬৪ নম্বর আসামি করে। পরিবারের দাবি, শুরু থেকেই ঘটনাটিকে মাদক সংক্রান্ত বিরোধ হিসেবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে, যাতে প্রকৃত অপরাধীরা আড়ালে থাকতে পারে।
এ ঘটনায় তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শেরপুর উপজেলা বিএনপির নেতারা। উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলাম বাবলু বলেন, “আব্দুল মতিন দলের একজন একনিষ্ঠ কর্মী ছিলেন। বিগত সরকারের সময় তাকে মিথ্যা মামলায় জড়ানোর পাশাপাশি হত্যাকাণ্ডের তদন্তও রহস্যজনকভাবে বাধাগ্রস্ত করা হয়েছে। আমরা এই ঘটনার উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্ত দাবি করছি।”
উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, “একজন নাগরিককে হত্যার পর দীর্ঘ সময় বিচারহীন রাখা আইনের শাসনের পরিপন্থী। আমরা আশা করি, বর্তমান সরকারের আমলে ভুক্তভোগী পরিবার দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে।”
সংবাদ সম্মেলনে নিহতের স্ত্রী লাইলী বেগম, মেয়ে মৌসুমী আক্তারসহ পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানান।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা বগুড়া সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মনজুর আলম জানান, মামলার নথিপত্র নতুন করে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। দ্রুততম সময়ের মধ্যে আসামিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার বিষয়ে তারা আশাবাদী।
নাজমুল হুদা নয়ন
শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি
০১৭৬১০০৭৩৭৪