আজ ঐতিহাসিক ৭ মার্চ। বাঙালি জাতির দীর্ঘ মুক্তিসংগ্রাম ও স্বাধীনতা আন্দোলনের ইতিহাসে এক অবিস্মরণীয় দিন। ১৯৭১ সালের এই দিনে তৎকালীন রেসকোর্স ময়দানে (বর্তমান সোহরাওয়ার্দী উদ্যান) লাখো জনতার সামনে দাঁড়িয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তার বজ্রকণ্ঠে স্বাধীনতার ডাক দিয়েছিলেন। মাত্র ১৮ মিনিটের সেই কালজয়ী ভাষণেই নির্ধারিত হয়েছিল বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ রণকৌশল।
১৯৭১ সালের এই পড়ন্ত বিকেলে বাঙালির অবিসংবাদিত এই নেতা ঘোষণা করেছিলেন— “এবারের সংগ্রাম আমাদের মুক্তির সংগ্রাম, এবারের সংগ্রাম স্বাধীনতার সংগ্রাম।” তিনি ঘরে ঘরে দুর্গ গড়ে তোলার নির্দেশ দিয়ে বলেছিলেন, “তোমাদের যা কিছু আছে, তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে।” তার এই একটি ভাষণই নিরস্ত্র বাঙালি জাতিকে সশস্ত্র যোদ্ধায় রূপান্তরিত করেছিল।
২০১৭ সালে জাতিসংঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতি বিষয়ক সংস্থা ইউনেস্কো (UNESCO) এই ঐতিহাসিক ভাষণকে ‘বিশ্ব প্রামাণ্য ঐতিহ্য’ (World Documentary Heritage) হিসেবে স্বীকৃতি দিয়ে মেমোরি অফ দ্য ওয়ার্ল্ড ইন্টারন্যাশনাল রেজিস্টারে অন্তর্ভুক্ত করে। ইতিহাসবিদদের মতে, এই ভাষণটি ছিল মূলত একটি অলিখিত স্বাধীনতার ঘোষণা এবং একটি পরাধীন জাতির মুক্তির চূড়ান্ত সনদ।
উল্লেখ্য যে, দীর্ঘ সময় ধরে এই দিনটি রাষ্ট্রীয়ভাবে আড়ম্বরের সঙ্গে পালিত হয়ে আসলেও, ২০২৪ সালের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকার এই দিবসটিসহ মোট আটটি জাতীয় দিবস সরকারিভাবে পালন না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে রাষ্ট্রীয় আনুষ্ঠানিকতা না থাকলেও বাঙালির জাতীয় চেতনা ও স্বাধীনতার ইতিহাসে ৭ মার্চের গুরুত্ব আজও অমলিন।