ইরানের সঙ্গে শুরু হওয়া সামরিক সংঘাতে কেবল প্রাণহানিই নয়, বিপুল আর্থিক ক্ষতির মুখেও পড়ছে যুক্তরাষ্ট্র। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানে হামলার প্রথম ২৪ ঘণ্টাতেই মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্যয় করেছে প্রায় ৭৭৯ মিলিয়ন মার্কিন ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ৯ হাজার ৫২৪ কোটি টাকারও বেশি। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই যুদ্ধ এক মাস বা তারও বেশি সময় স্থায়ী হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর এই বিশাল ব্যয় নিয়ে বিশ্বজুড়ে শুরু হয়েছে নানা আলোচনা ও সমালোচনা।
সেন্টার ফর নিউ আমেরিকান সিকিউরিটির তথ্যমতে, বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ পরিচালনার পেছনেই প্রতিদিন ব্যয় হচ্ছে প্রায় ৬.৫ মিলিয়ন ডলার বা ৭৯ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। যুদ্ধের শুরুতেই যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে দুটি শক্তিশালী বিমানবাহী স্ট্রাইক গ্রুপ মোতায়েন করে। নৌজাহাজ মোতায়েন, বিমান পুনঃস্থাপন এবং আঞ্চলিক সামরিক শক্তি সঞ্চয়ে এই প্রাক-যুদ্ধ প্রস্তুতির আনুমানিক ব্যয় দাঁড়িয়েছে প্রায় ৬৩০ মিলিয়ন ডলারে, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৭৭ হাজার ১৭৫ কোটি টাকার সমান।
যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষস্থানীয় আর্থিক বিশ্লেষক কেন্ট স্মেটার্স সতর্ক করে জানিয়েছেন, ট্রাম্পের ইঙ্গিত অনুযায়ী যুদ্ধ যদি দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে মোট ব্যয়ের পরিমাণ ২১০ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছাতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এই বিশাল অঙ্কের পরিমাণ দাঁড়াবে প্রায় ২৫ লাখ ২০ হাজার কোটি টাকা। যুদ্ধের সময়সীমা প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেছেন, “আমরা চার থেকে পাঁচ সপ্তাহের পূর্বাভাস দিলেও আমাদের দীর্ঘ সময় লড়াই করার সক্ষমতা রয়েছে। সময় যাই লাগুক, আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করব।”
এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, ইরানের বিমান প্রতিরক্ষা, বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীর সক্ষমতা প্রায় শেষ হয়ে গেছে। তিনি ইরানের সাথে আলোচনার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে বলেন, “তারা এখন কথা বলতে চায়, কিন্তু অনেক দেরি হয়ে গেছে।” অন্যদিকে ইরানও তাদের অবস্থানে অনড়। জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আলি বাহরেনি জানিয়েছেন, এই যুদ্ধ তাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে এবং হামলা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত তারা প্রতিরোধ অব্যাহত রাখবেন।