জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর চিরচেনা সেই চরিত্রগুলো এবার পর্দায় হাজির হয়েছে এক ভিন্ন আমেজ নিয়ে। নির্মাতা কাজল আরেফিন অমি রমজান ও ঈদকে কেন্দ্র করে নির্মাণ করেছেন বিশেষ কনটেন্ট ‘ব্যাচেলর রমজান ভাইব’। যদিও এটি একটি মুঠোফোন ব্র্যান্ডের প্রচারণামূলক কাজ, তবুও ফান ও কমেডির আবরণে এতে ফুটে উঠেছে গভীর সামাজিক ও মানবিক বার্তা।
গল্পের প্রেক্ষাপটে দেখা যায়, কাবিলা, পাশা, হাবু ও নেহালরা ঈদে দেশের বাইরে ঘুরতে যাওয়ার পরিকল্পনা বাতিল করে এতিম শিশুদের পাশে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। সুবিধা বঞ্চিত শিশুদের মুখে হাসি ফুটিয়ে তাদের সঙ্গেই ঈদের আনন্দ ভাগ করে নেয় এই ব্যাচেলররা। নির্মাতা অমির মতে, যাদের স্বজন নেই বা যারা একাকিত্বে ভোগেন, তাদের নিয়ে উৎসব উদযাপন করলে দিনটি বিশেষ হয়ে ওঠে। সমাজের মানুষকে একে অপরের সাহায্যে এগিয়ে আসার অনুপ্রেরণা জোগানোই ছিল এই কনটেন্টের মূল উদ্দেশ্য।
নাটকটিতে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বের এক নিবিড় টানও ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। বছরের পর বছর একসঙ্গে থাকার ফলে কাবিলা-পাশাদের মনে হয়, ঈদের ছুটিতে বাড়ি গেলেও তাদের আত্মার টান রয়ে গেছে সেই ব্যাচেলর বাসাতেই। এই দৃশ্যগুলো দর্শকদের বেশ আবেগপ্রবণ করে তুলেছে। বিশেষ করে পাশা ভাইয়ের মুখে “আমাদের ফ্যামিলিতে হাবু আর আমি ছাড়া কেউ নাই, এতিমগো একাই ঈদ করতে হয়”—এমন সংলাপ নেটিজেনদের হৃদয় ছুঁয়ে গেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দর্শকরা এই কাজের ভূয়সী প্রশংসা করছেন। দর্শকদের মতে, মাত্র ১৪ মিনিটের এই কনটেন্টে হাসি-ঠাট্টার পাশাপাশি একাকিত্ব ও সহমর্মিতার যে গল্প বলা হয়েছে, তা শিক্ষণীয়। রমজানের প্রকৃত শিক্ষা যে ধনী-দরিদ্রের বৈষম্য ভুলে মানুষের পাশে দাঁড়ানো, সেটিই যেন মনে করিয়ে দিল ব্যাচেলর টিম। বুম ফিল্মসের ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত এই কাজটি দর্শক হৃদয়ে জায়গা করে নেওয়ার পাশাপাশি মানবিকতার এক জোরালো বার্তাও পৌঁছে দিয়েছে।