৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থান পরবর্তী দীর্ঘ ১৮ মাসের অন্তর্বর্তীকালীন শাসনের অবসান ঘটিয়ে আজ মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) থেকে বাংলাদেশে শুরু হচ্ছে নির্বাচিত রাজনৈতিক সরকারের নতুন এক অধ্যায়। বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে আজ বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভা শপথ গ্রহণ করবে। তবে এই উৎসবমুখর পরিবেশের মধ্যেও নতুন সরকারের জন্য প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে দেশের বিশাল ঋণের বোঝা।
আজ সকাল ১০টায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর বিকেল ৪টায় জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত হবে মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠান। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তারেক রহমান ও তাঁর মন্ত্রিসভাকে শপথ বাক্য পাঠ করাবেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, নতুন এই মন্ত্রিসভায় প্রবীণ ও নবীনের সমন্বয়ে ৩৫ থেকে ৪০ জন সদস্য থাকতে পারেন।
‘বণিক বার্তা’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, নতুন সরকার এমন এক সময়ে দায়িত্ব নিচ্ছে যখন দেশের ওপর ২৩ লাখ ২৫ হাজার ১৫৫ কোটি টাকার ঋণের বোঝা চেপে আছে। ২০২৪-২৫ অর্থবছর শেষে এই ঋণ ছিল ২২ লাখ ৫০ হাজার কোটি টাকার মতো, যা গত ছয় মাসে ব্যাংকিং ও বৈদেশিক ঋণের চাপে আরও বেড়েছে। এই বিশাল ঋণের চাপ সামলে অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করাই হবে নতুন সরকারের প্রথম ও প্রধান অগ্নিপরীক্ষা।
তারেক রহমানের এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানকে ঘিরে কূটনৈতিক পাড়ায় ব্যাপক তোড়জোড় চলছে। ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা আজ দুপুরেই ঢাকা পৌঁছাবেন। এছাড়া ভুটানের প্রধানমন্ত্রী, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্টসহ পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কার উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিরা ইতোমধ্যে ঢাকায় পৌঁছেছেন।
সরকার পরিবর্তনের ঠিক আগেই প্রশাসনে বড় ধরণের রদবদলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং প্রধান উপদেষ্টার মুখ্য সচিব পদত্যাগ করেছেন। অন্যদিকে, রমজানের আগে ভোগ্যপণ্যবাহী প্রায় অর্ধশত জাহাজ চট্টগ্রাম বন্দরে আটকে থাকায় বাজারে পণ্য সরবরাহে সংকটের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে, যা নতুন সরকারের জন্য একটি তাৎক্ষণিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি) জানিয়েছে, এবারের সংসদেও ব্যবসায়ীদের আধিপত্য বজায় থাকছে; প্রায় ৬০ শতাংশ সদস্যই পেশায় ব্যবসায়ী। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের ভিত্তি তৈরি করে দিয়ে বিদায় নিচ্ছে। এখন তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার কীভাবে এই অর্থনৈতিক ও প্রশাসনিক সংকট কাটিয়ে ওঠে, সেদিকেই তাকিয়ে আছে পুরো দেশ।