কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় বিধবা নারীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে আজিজুল হক (৪০) নামের এক যুবকের বিরুদ্ধে।
ঘটনাটি ঘটেছে উপজেলার দাসিযারছড়ার কামালপুর এলাকায়। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ধর্ষক আজিজুল হককে ১নং আসামী করে ফুলবাড়ী থানায় একটি ধর্ষণ মামলা করেছেন ভুক্তভোগী ওই নারী (৩৪)।
মামলার এজাহারে জানা যায়, ১নং বিবাদী আজিজুল হক চার বছর আগে ভুক্তভোগী ওই নারীর সাথে মোবাইল ফোনে কথা বলে। মোবাইল ফোনে কথা বলার সূত্র ধরে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে তোলে। সেই প্রেমের সম্পর্কের সুবাদে ওই নারীকে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ফুসলাইয়া বাড়ির লোকজনের অগোচরে নিজ বাড়ীতে ধর্ষণ করে। এক পর্যায়ে গত ১২/০৩/২৬ইং রাত ১০টার সময় ১নং বিবাদী আজিজুল হক বাড়ির লোকজনের অগোচরে ভুক্তভোগীর শোবার ঘরে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ধর্ষণ করে। পরবর্তীতে ১নং বিবাদী ভিকটিমের সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয়। ভিকটিম ১নং বিবাদীদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করলে ১নং বিবাদী ভিকটিমের মোবাইল নম্বর ব্লক লিস্টে রাখে। পরবর্তীতে ভুক্তভোগী ওই নারী ১নং বিবাদীর মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করতে না পেরে গত ২১/০৪/২৬ইং তারিখ রাত ৮টায় ১নং বিবাদীর বাড়িতে গিয়ে ১নং বিবাদীকে ভিকটিমকে বিয়ে করার জন্য বলে। এতে ২নং বিবাদী আবুল কালাম (৫৮), পিতা মৃত আব্দুল করিম ব্যাপারী, ৩নং বিবাদী আনজু বেগম (৫০), স্বামী আবুল কালাম, ৪নং বিবাদী মুন্নি বেগম (৩৫), স্বামী আজিজুল হক, ৫নং বিবাদী জাকারিয়া (৫০), পিতা আফছার আলী, ৬নং বিবাদী এনামুল হক (৪৫), পিতা অজ্ঞাত, ৭নং বিবাদী লিটন কাজী (৪০), পিতা মৃত মজিবর রহমান, ৮নং বিবাদী রাশিদুল ইসলাম (৩৮), পিতা হাছেন আলী, সর্ব সাং চন্দ্রখানা, কাজীটারী (নাওডাঙ্গা পুলের পাড় সংলগ্ন), থানা ফুলবাড়ী, জেলা কুড়িগ্রাম বিবাদীগন বেআইনি জনতায় দলবদ্ধ হয়ে ভিকটিমকে বিভিন্ন ধরনের ভয়ভীতি সহ হুমকি ধামকি প্রদর্শন করে তাদের বাড়ী থেকে তাড়িয়ে দেয়ার চেষ্টা করে। ভিকটিম রাজী না হলে ২-৮ নং বিবাদী গন ভিকটিমকে এলোপাতাড়িভাবে কিল ঘুষি মেরে তাদের বাড়ী থেকে বের করে দেয়। এ ঘটনায় ভিকটিম তার ভাই ইয়াছিন আলীকে সঙ্গে নিয়ে ফুলবাড়ী থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। যাহার মামলা নং-১৮/৭২, তাং-২৬/০৪/২৬ইং।
ধর্ষিতা নারী বলেন, ” দীর্ঘ ৪ বছর ধরে প্রেমের সম্পর্ক রেখে বিয়ের প্রলোভন দিয়ে ১নং বিবাদী আজিজুল হক আমার সাথে শারীরিক সম্পর্ক করে। আমি তাকে বিয়ের কথা বললেও সে আমাকে মেনে নেয়নি। পরে আমি বাধ্য হয়ে আইনের আশ্রয় নিয়েছি। আমি ওই আজিজুলকেই বিয়ে করে সংসার করতে চাই।”
এবিষয়ে ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম বলেন,“ভুক্তভোগীর পরিবারের লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে। ভুক্তভোগীর ডাক্তারি পরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। অভিযুক্তকে গ্রেফতারের জন্য পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে।”