• সোমবার, ২৯ জুন ২০২৬, ০১:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
দেশের অর্থনীতিকে তিন ধাপে সাজাতে চায় সরকার: প্রধানমন্ত্রী একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই শেরপুরে ৮ পিস ইয়াবাসহ যুবক গ্রেপ্তার শেরপুর পূজা উদযাপন পরিষদের নতুন আহ্বায়ক কমিটি গঠন: শ্যাম আহ্বায়ক, কৃষ্ণ যুগ্ম আহ্বায়ক কুড়িগ্রামে আটক করা ২ বস্তা ভারতীয় কিটক্যাট চকলেট ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগ বিএনপি কর্মীর বিরুদ্ধে শিবগঞ্জে যুব উন্নয়ন ক্লাবের ফুটবল ফাইনাল খেলা অনুষ্ঠিত শিবগঞ্জে পবিত্র আশুরা উপলক্ষে শোক মিছিল ও মাতম ঠাকুরগাঁওয়ে কমিউনিটি সেন্টারের পাশে যুবকের মরদেহ উদ্ধার। কুড়িগ্রামে শিক্ষকদের সঙ্গে এমপি ড. আতিক মুজাহিদ এর মতবিনিময় সভা কুড়িগ্রাম জেলা উন্মুক্ত দাবা চ্যাম্পিয়নশিপ-২০২৬-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠিত

একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য চিত্রশিল্পী মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই

অনলাইন ডেস্ক / ১১ Time View
Update : সোমবার, ২৯ জুন, ২০২৬

12

 একুশে পদকপ্রাপ্ত কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী, নির্মাতা ও ‘বাংলাদেশের পাপেটম্যান’ হিসেবে খ্যাত মুস্তাফা মনোয়ার আর নেই। (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)।

সোমবার (২৯ জুন) সকালে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৯০ বছর।

হাসপাতাল সূত্র জানায়, নিউমোনিয়াজনিত জটিলতা এবং বার্ধক্যজনিত নানা শারীরিক সমস্যায় তিনি দীর্ঘদিন ধরে ভুগছিলেন। গত ১৪ জুন অসুস্থ অবস্থায় তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়। সোমবার সকাল সাড়ে ৮টার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।

পারিবারিক সূত্র জানায়, তাঁর ফুসফুসে মারাত্মক ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হয়েছিল। একই সঙ্গে তিনি দীর্ঘদিন ধরে নিউমোনিয়া ও প্রোস্টেট ক্যানসারে ভুগছিলেন। রক্তচাপ ও অক্সিজেনের মাত্রা কমে যাওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়। প্রায় দুই সপ্তাহ চিকিৎসাধীন থাকার পর তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের স্ত্রী মেরী মনোয়ারও তাঁর অসুস্থতার বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছিলেন, ফুসফুসে গুরুতর ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণের কারণে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে।

১৯৩৫ সালের ১ সেপ্টেম্বর মাগুরা জেলার নাকোল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন মুস্তাফা মনোয়ার। তাঁর পৈতৃক বাড়ি ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার মনোহরপুর গ্রামে। তিনি প্রখ্যাত কবি গোলাম মোস্তফার সন্তান।

নারায়ণগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুল থেকে ম্যাট্রিক পাসের পর কলকাতার স্কটিশ চার্চ কলেজে বিজ্ঞান বিভাগে ভর্তি হলেও পরবর্তীতে চারুকলার প্রতি আগ্রহ থেকে কলকাতা চারু ও কারুকলা মহাবিদ্যালয়ে ভর্তি হন। ১৯৫৯ সালে তিনি ফাইন আর্টসে প্রথম শ্রেণিতে প্রথম স্থান অর্জন করেন।

দেশে ফিরে শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিনের পরামর্শে আর্ট কলেজে শিক্ষকতা শুরু করলেও পরে বাংলাদেশ টেলিভিশনে যোগ দেন। দীর্ঘ কর্মজীবনে চিত্রকলা, শিশুতোষ অনুষ্ঠান নির্মাণ, পাপেট শিল্প এবং টেলিভিশনের মাধ্যমে দেশের সংস্কৃতি বিকাশে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি।

শিল্প ও সংস্কৃতিতে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৪ সালে তিনি একুশে পদকে ভূষিত হন। এছাড়াও কর্মজীবনে বহু জাতীয় ও আন্তর্জাতিক সম্মাননা লাভ করেন।

মুস্তাফা মনোয়ারের মৃত্যুতে দেশের শিল্প-সংস্কৃতি অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, সহকর্মী, শুভাকাঙ্ক্ষী ও অনুরাগীরা তাঁর বিদেহী আত্মার মাগফিরাত কামনা করেছেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা