বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের অবিসংবাদিত সম্রাট আইয়ুব বাচ্চু মরণোত্তর ‘একুশে পদক ২০২৬’-এ ভূষিত হয়েছেন। অমর একুশে ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে দেশের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ বেসামরিক এই সম্মাননা প্রদানের মাধ্যমে কিংবদন্তি এই শিল্পীর কালজয়ী অবদানকে স্বীকৃতি দিল রাষ্ট্র।
বৃহস্পতিবার (২৬ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী পদকপ্রাপ্তদের হাতে সম্মাননা তুলে দেন। প্রয়াত আইয়ুব বাচ্চুর পক্ষে তার স্ত্রী ফেরদৌস আক্তার চন্দনা প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে এই পদক গ্রহণ করেন।
পদক গ্রহণের পর এক আবেগঘন বার্তায় ফেরদৌস আক্তার চন্দনা সামাজিক মাধ্যমে জানান, এটি কেবল একজন শিল্পী হিসেবে আইয়ুব বাচ্চুর সম্মাননা নয়, বরং এটি বাংলা ব্যান্ড সংগীতের জন্য একটি ঐতিহাসিক রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি। তিনি বলেন, “সারাটা জীবন তিনি সংগীতের জন্য বিলিয়ে দিয়েছেন। বাংলাদেশের প্রতিটি প্রান্তে এবং বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা বাংলা ভাষাভাষীদের হৃদয়ে তিনি চিরকাল বেঁচে থাকবেন।”
আইয়ুব বাচ্চুর হাতে গড়া ব্যান্ড দল ‘এলআরবি’র অফিসিয়াল ফেসবুক পেজ থেকেও এই অর্জনে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়েছে। বিবৃতিতে বলা হয়, এই রাষ্ট্রীয় সম্মান তার আজীবন সংগীতসাধনার প্রতি জাতির গভীর শ্রদ্ধার প্রতিফলন। বাংলা রকের পথচলায় তিনি যে নতুনত্বের পরিচয় দিয়েছেন, তা আমাদের সংস্কৃতিকে বিশ্বমঞ্চে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে। এই স্বীকৃতির জন্য বাংলাদেশ সরকারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়ে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, রাষ্ট্র যখন কোনো শিল্পীকে সম্মানিত করে, তখন পুরো সঙ্গীতাঙ্গনই অনুপ্রাণিত হয়।
তবে এলআরবি তাদের বিবৃতিতে প্রত্যাশা ব্যক্ত করে জানিয়েছে, আইয়ুব বাচ্চুর সৃষ্টিশীলতা ও সাংস্কৃতিক প্রভাব বিবেচনায় তিনি স্বাধীনতা পদকের মতো সর্বোচ্চ রাষ্ট্রীয় সম্মাননারও দাবিদার। তারা বিশ্বাস করেন, অদূর ভবিষ্যতে তার নামের পাশে সেই স্বীকৃতিও যুক্ত হবে। পরিশেষে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জ্ঞাপন করা হয়।