সোমবার (২৯ জুন) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর বক্তব্য দিতে গিয়ে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, দেশের সম্পদের সীমাবদ্ধতা বিবেচনায় নিয়ে সরকার দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে উন্নয়ন বাজেট ৫০ হাজার কোটি টাকা বৃদ্ধি করা হয়েছে। জনগণের অর্থ জনগণের কল্যাণে ব্যয় করাই সরকারের অঙ্গীকার বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার অর্থনীতিকে তিনটি ধাপে এগিয়ে নিতে চায়—পুনরুদ্ধার, উত্তরণ ও পুনর্গঠন। ঋণনির্ভর অর্থনীতির পরিবর্তে উৎপাদনভিত্তিক বিনিয়োগকে গুরুত্ব দেওয়া হবে, যাতে তরুণরা নিজেরাই কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেন।
তিনি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটের নাম দেন ‘জীবন বান্ধব বাজেট’। তাঁর ভাষায়, এই বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা হয়েছে যাতে সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষ কিছুটা হলেও স্বস্তি পান এবং দেশের অর্থনীতি গতিশীল হয়।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদের যাত্রা শুরুর পর বিভিন্ন রাজনৈতিক মত ও অবস্থানের মধ্যে আলোচনা, মতবিনিময় এবং গণতান্ত্রিক চর্চার মাধ্যমে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। মতভেদ থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাই একসঙ্গে কাজ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, গত ৫ আগস্টের ঘটনার পর দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতসহ সার্বিক পরিস্থিতি অত্যন্ত সংকটপূর্ণ ছিল। সেই অবস্থা থেকে ধাপে ধাপে দেশকে গণতান্ত্রিক ধারায় ফিরিয়ে আনতে সরকার সফল হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সংসদে সরকারি দল, বিরোধী দল ও স্বতন্ত্র সদস্যরা দেশের মানুষের স্বার্থে সভ্য ও গণতান্ত্রিক পরিবেশে আলোচনা করছেন। এজন্য তিনি সংসদের সব সদস্যের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, অতীতের বিতর্কে না গিয়ে সরকার ভবিষ্যৎমুখী পরিকল্পনার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। বাস্তবতা বিবেচনায় নিয়েই এমন একটি বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতিকে এগিয়ে নিতে সহায়ক হবে।
প্রধানমন্ত্রী জানান, নিত্যপ্রয়োজনীয় ৬১টি পণ্যের ওপর শুল্ক প্রত্যাহারের সিদ্ধান্তের ফলে বাজেট ঘোষণার আগে বা পরে বাজারে অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি দেখা যায়নি। এতে সাধারণ মানুষ, বিশেষ করে নারীরা ইতিবাচকভাবে উপকৃত হয়েছেন।
তিনি বলেন, সরকারের লক্ষ্য জনগণকে স্বস্তি দেওয়া এবং তাদের জীবনযাত্রার ব্যয় সহনীয় রাখা। সব সমস্যার তাৎক্ষণিক সমাধান সম্ভব না হলেও সর্বোচ্চ আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে এমন একটি বাজেট উপস্থাপন করা হয়েছে, যা দেশের উন্নয়ন ও মানুষের কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।