বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) নির্বাচন বিতর্ক, পদচ্যুতি ও পদত্যাগ—সব মিলিয়ে এক অস্থির সময় পার করছে দেশের ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থাটি। নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিয়ে দীর্ঘদিনের চলমান বিতর্কের মাঝেই গত রোববার মিডিয়া কমিটির চেয়ারম্যান পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয় আমজাদ হোসেনকে। এর পরপরই তিনি বিসিবির পরিচালকের পদ থেকেও ইস্তফা দিয়েছেন। সোমবার (২৪ মার্চ) সাংবাদিকদের সামনে এসে নিজের এই আকস্মিক সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দেন তিনি।
পদত্যাগের বিষয়ে আমজাদ হোসেন স্পষ্ট করে জানান, এটি তাঁর সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্ত এবং কোনো চাপের মুখে তিনি সরে দাঁড়াননি। তিনি বলেন, “বোর্ড যখন মনে করেছে আমার সার্ভিসের আর প্রয়োজন নেই, তখন থেকেই আমি সরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। বিসিবিতে কাজ করা আমার জন্য সম্মানের ছিল এবং সেই সম্মান বজায় রেখেই আমি বিদায় নিয়েছি।” তাঁকে সরিয়ে দেওয়ার পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ জানানো না হলেও বোর্ডের সিদ্ধান্তের প্রতি পূর্ণ শ্রদ্ধা পোষণ করেছেন তিনি।
বিসিবির নির্বাচন প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে আমজাদ বলেন, “হয়তো অংশগ্রহণের দিক থেকে চিন্তা করলে নির্বাচনটি আরও স্বচ্ছ হতে পারত। তবে সব নির্বাচন নিয়েই পক্ষ-বিপক্ষ বা বিতর্ক থাকে।” বিসিবিতে ‘কিচেন ক্যাবিনেট’ বা নির্দিষ্ট কিছু ব্যক্তির একাধিপত্যের অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি জানান, ব্যক্তিগতভাবে তাঁর এমন কোনো অভিজ্ঞতা হয়নি। উল্লেখ্য, ওমরাহ পালন শেষে দেশে ফেরায় জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের চলমান তদন্ত নিয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।
বিদায়লগ্নে বোর্ডের প্রতি কোনো ক্ষোভ নেই জানিয়ে আমজাদ হোসেন গণমাধ্যমকে আহ্বান জানান যেন সমালোচনার পাশাপাশি বিসিবির ইতিবাচক কাজগুলোও যথাযথভাবে তুলে ধরা হয়। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “পরিচালক থাকাকালীন বোর্ড ভালো ছিল আর আজ নেই দেখে বোর্ড খারাপ—এমন দ্বিমুখী নীতিতে আমি বিশ্বাস করি না।” গত রোববার রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিসিবি জানায়, আমজাদ হোসেনের পরিবর্তে মিডিয়া কমিটির নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে মোখছেদুর রহমান বাবুকে।