জ্বালানি তেল বিক্রিতে সরকারের ‘সর্বোচ্চ সীমা’ নির্ধারণের পর রাজধানীর পেট্রোল পাম্পগুলোতে দেখা দিয়েছে অস্বাভাবিক ভিড়। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির জেরে সরবরাহ নিয়ে সাধারণ মানুষের মাঝে তৈরি হওয়া আতঙ্কের কারণে বৃহস্পতিবার রাত থেকে পাম্পগুলোতে গাড়ির দীর্ঘ লাইন দেখা গেছে, যা অনেক জায়গায় মূল সড়ক পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মধ্যরাত পেরিয়ে গেলেও পাম্পগুলোতে মোটরসাইকেল, প্রাইভেটকার ও গণপরিবহনের চালকদের দীর্ঘ অপেক্ষা করতে হচ্ছে। অনেকেই অভিযোগ করেছেন, নির্ধারিত সীমার চেয়ে কম তেল দেওয়া হচ্ছে অথবা পাম্পগুলো পর্যাপ্ত তেল নেই বলে ফিরিয়ে দিচ্ছে। ইরান-ইসরায়েল সংঘাতের প্রেক্ষাপটে জ্বালানি সংকট হতে পারে—এমন ধারণা থেকে অনেকেই একসাথে বেশি তেল মজুতের চেষ্টা করছেন, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে।
কনজ্যুমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ক্যাব)-এর সভাপতি এ এইচ এম সফিকুজ্জামান এই পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, “সবাই যদি আতঙ্কিত হয়ে একসাথে বাড়তি তেল সংগ্রহ করতে যান, তবে সরবরাহ ব্যবস্থার ওপর অযথা চাপ তৈরি হবে। দেশের বর্তমান বাস্তবতা বুঝে আমাদের সাশ্রয়ী হওয়া প্রয়োজন।”
এদিকে জ্বালানি মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ বারবার নিশ্চিত করছে যে, দেশে জ্বালানি তেলের মজুত পর্যাপ্ত ও সরবরাহ স্বাভাবিক রয়েছে। গুজব বা আতঙ্কে কান দিয়ে অপ্রয়োজনীয় মজুত থেকে বিরত থাকতে নাগরিকদের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে। তবে পাম্পগুলোতে মানুষের ভিড় কমছে না, ফলে ভোগান্তি চরমে পৌঁছেছে।