জাতীয় পর্যায়ের সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় সেরা-১০ এ স্থান করে নিয়ে সিরাজগঞ্জবাসীর গর্বে পরিণত হয়েছে ইবনে হাইসাম বিজ্ঞান মাদরাসার নার্সারী শ্রেণীর শিক্ষার্থী জাকিয়াতু বিনতে মোস্তফা তাকওয়া।
সিরাজগঞ্জ জেলা শহরে অবস্থিত ইবনে হাইসাম বিজ্ঞান মাদরাসার এই ক্ষুদে শিক্ষার্থী খুব অল্প বয়সেই তার অসাধারণ প্রতিভার স্বাক্ষর রেখেছে। মাত্র ৬ বছর বয়সে জাতীয় পর্যায়ের প্রতিযোগিতায় সাফল্য অর্জন করাকে বিরল ঘটনা বলছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাকওয়ার সাংস্কৃতিক জীবনের শুরু হয় ২০২৪ সালে, যখন সে প্লে শ্রেণীর শিক্ষার্থী। মাদরাসার নিয়মিত সাংস্কৃতিক ক্লাসে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সংগীত, আবৃত্তি ও অভিনয়ের প্রতি তার আগ্রহ তৈরি হয়। চুপচাপ স্বভাবের ছোট্ট তাকওয়া প্রতি শনিবার মায়ের হাত ধরে মাদরাসায় গিয়ে সাংস্কৃতিক ক্লাসে অংশ নিত।
২০২৫ সালের শেষের দিকে বাংলাদেশ টেলিভিশন (বিটিভি) কর্তৃক আয়োজিত শিশুতোষ রিয়েলিটি শো ‘নতুন কুঁড়ি–২৫’ এ আঞ্চলিক পর্যায়ে আবৃত্তি ও অভিনয়ে ‘ইয়েস কার্ড’ পেয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে অংশগ্রহণ করে তাকওয়া। যদিও সে পর্যায়ে বাদ পড়ে যায়, তবে সেটিই ছিল তার জীবনের প্রথম প্রতিযোগিতামূলক অংশগ্রহণ ও বড় অর্জন।
পরাজয়ের পর থেমে থাকেনি তাকওয়া। প্রবল ইচ্ছাশক্তি ও আত্মবিশ্বাস নিয়ে আবারও সে অংশ নেয় মার্কস অলরাউন্ডার প্রতিযোগিতায়। সেখানে আঞ্চলিক পর্যায়ে অভিনয় ও আবৃত্তিতে অংশ নিয়ে বাছাইপর্বে শেষ পাঁচে জায়গা করে নেয়।
এরপর একই বছর অনুষ্ঠিত হয় জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ‘সেরাদের সেরা সিজন–৬’। উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত রাউন্ডে দেশের সেরা ৩০ জন প্রতিযোগীর মধ্যে স্থান করে নেয় তাকওয়া। গত ১ জানুয়ারি ২০২৬ ঢাকার তেজগাঁও কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত চূড়ান্ত পর্বে নিজের অভিনয় দক্ষতা ও প্রতিভার স্বাক্ষর রেখে সেরা-১০ এ স্থান অর্জন করে সে।
তাকওয়া সিরাজগঞ্জ শহরের ব্যতিক্রম সাহিত্য সাংস্কৃতিক সংসদের থিয়েটার বিভাগের শিক্ষার্থী। তার সাংস্কৃতিক শিক্ষক ও প্রশিক্ষক আহসান হাবীব মানিক বলেন,
“মাত্র ৬ বছর বয়সে এ ধরনের অসামান্য অর্জন সত্যিই বিরল। আত্মবিশ্বাস, চেষ্টা ও যোগ্যতা ছাড়া এতদূর আসা সম্ভব নয়। তাকওয়ার এই সাফল্য আমাদের প্রতিষ্ঠান ও জেলার জন্য গর্বের।”
জন্মসূত্রে পাবনা জেলার হলেও বাবার ব্যবসার সুবাদে তাকওয়ার বেড়ে ওঠা সিরাজগঞ্জে। এখানকার প্রকৃতি ও পরিবেশ তার কাছে আপন হয়ে উঠেছে।
তাকওয়ার বাবা মো. গোলাম মোস্তফা বলেন,
“আমার ইচ্ছা আমার মেয়ে ভবিষ্যতে আরও এগিয়ে যাক। সুস্থ সাংস্কৃতির মাধ্যমে তার প্রতিভা দেশ, জাতি ও দ্বীনের কল্যাণে কাজে লাগুক। ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সকলের কাছে আমার মেয়ের জন্য দোয়া কামনা করছি।”
ক্ষুদে তাকওয়ার এই অর্জনে গর্বিত তার পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও পুরো সিরাজগঞ্জ জেলা। সবার প্রত্যাশা—ভবিষ্যতে দেশ-বিদেশে নিজের প্রতিভা ছড়িয়ে দিয়ে সে আরও বড় সাফল্য অর্জন করবে।