• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:৪৫ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান কুড়িগ্রামে মেয়েদের প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ডিএস কেজি মাদ্রাসায় বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা: ড. তিতুমীর সিরাজগঞ্জে “খেলাঘর” শিশুদের প্রাণবন্ত উৎসবে নববর্ষ উদযাপন কুইজ, কবিতা ও চিত্রাঙ্কণে মাতলো সৈয়দপুর; পহেলা বৈশাখে ‘সততসঞ্চারী’র অনুষ্ঠান দুপচাঁচিয়ায় সাকসেসফুল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের মেধা বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুপচাঁচিয়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা উল্লাপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন কিশোরগঞ্জে গ্ৰামীন সাঁজে জাঁকজমক পূর্ণ বৈশাখী শোভাযাত্রা

শেরপুরে ড্যাপ সার সংকট: ভুট্টা ও আলু চাষে চরম বিপর্যয়, কৃষকদের দুঃসময়

শেরপুর বগুড়া প্রতিনিধি / ১৪২ Time View
Update : শনিবার, ২২ নভেম্বর, ২০২৫

146

 

বগুড়ার শেরপুর উপজেলায় কৃত্রিমভাবে তৈরি হওয়া ড্যাপ (DAP) সার সংকটের কারণে ভুট্টা ও আলুর বপন মৌসুম চরম বিপাকে পড়েছেন কৃষকেরা। প্রয়োজন মতো সার না পাওয়ায় অনেক জায়গায় চাষাবাদ ব্যাহত হচ্ছে। আর কিছু সার মিললেও তা পাওয়া যাচ্ছে অতিরিক্ত মূল্যে, যা সাধারণ কৃষকের নাগালের বাইরে। মৌসুমি এই ফসল চাষে সংকট অব্যাহত থাকলে উৎপাদন ব্যাহত হবে এবং কৃষকদের আর্থিক ক্ষতি বাড়বে।

জানা যায়, সরকারি নির্ধারিত মূল্য অনুযায়ী প্রতি বস্তা ড্যাপ সারের দাম ১ হাজার ৫০ টাকা। কিন্তু বাস্তবে কৃষকদের ১ হাজার ৬৫০ থেকে ১ হাজার ৭০০ টাকা দিয়ে এক বস্তা সার কিনতে হচ্ছে। এতে অতিরিক্ত ৬০০ থেকে ৬৫০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে তাদের।

সুঘাট ইউনিয়নের কৃষক জহুরুল ইসলাম বলেন,
“সরকারি দামে সার পাওয়া যায় না। ডিলাররা বলে সাপ্লাই নাই, অথচ বাজারে ঘুরলেই সার পাওয়া যায়—কিন্তু বেশি দামে। আমি আমার এলাকায় সার না পেয়ে অন্য এলাকা থেকে ১ হাজার ৬৫০ টাকা দিয়ে সার কিনে চাষাবাদ করছি। এরকম অবস্থা চলতে থাকলে আমরা চাষাবাদ করব কীভাবে?”

শালফা গ্রামের কৃষক মো. মামুন জানান,
“গত সপ্তাহে ১ হাজার ৩০০ টাকায় ড্যাপ সার কিনে কয়েক বিঘা জমিতে ভুট্টা লাগিয়েছি। এখন আরও ৪ বিঘা জমি প্রস্তুত। ভুট্টার বীজ রেডি, কিন্তু সার না থাকায় বপন করতে পারছি না। যে সার পাওয়া যাচ্ছে তার দাম চাচ্ছে ১ হাজার ৬৫০ টাকা। বছরের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এমন সংকট আগে দেখিনি। বাধ্য হয়ে দেড় হাজার টাকার বেশি দিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে যাবে।”

স্থানীয় ডিলাররা বলেন, নতুন সার এখনও তাদের কাছে পৌঁছায়নি, তাই কৃষক পর্যায়ে সরবরাহ করতে পারছেন না। তবে খুব দ্রুত সার এসে যাবে বলে জানান তারা।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে—খুচরা বিক্রেতারা তাহলে কোথা থেকে সার পাচ্ছেন? স্থানীয়দের অভিযোগ, বাজারে সাপ্লাই নেই বললেও কিছু ব্যবসায়ী বিভিন্ন উপায়ে সার সংগ্রহ করে বাড়তি দামে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়ে শেরপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ ফারজানা আক্তার বলেন,
“আগামী কালকের মধ্যেই ডিলারদের মাধ্যমে কৃষকদের কাছে সরকারি মূল্যেই সার বিতরণ করা হবে। খুচরা পর্যায়ে সারের দাম বেশি নেওয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ পেলে বাজার মনিটরিং করে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কৃষকদের যাতে বপন মৌসুমে সমস্যায় না পড়তে হয়, সে বিষয়ে আমরা নজরদারি করছি।”

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা