বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মাঝে সৃজনশীলতা, জ্ঞান ও সাংস্কৃতিক চেতনা বিকাশের লক্ষ্যে অরাজনৈতিক সংগঠন ‘সততসঞ্চারী’এর উদ্যোগে কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) বিকেলে নীলফামারীর সৈয়দপুরের রহমতউল্লাহ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এ আয়োজন অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শতাধিক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করে।
আয়োজক সংগঠন সূত্রে জানা যায়, পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে ১৩ এপ্রিল তিনটি বিভাগে কুইজ, কবিতা আবৃত্তি ও চিত্রাঙ্কণ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে ১৪ এপ্রিল পহেলা বৈশাখ উপলক্ষে আয়োজিত পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে রেজিস্ট্রেশনকৃত শিক্ষার্থীদের জন্য ঐতিহ্যবাহী পান্তা ভাতের বিশেষ আয়োজন রাখা হয়।
আয়োজিত অনুষ্ঠানে দ্যা লাইসিয়ামের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এবং সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান উপদেষ্টা মোঃ আশরাফুল ইসলাম সবুজের সভাপতিত্বে ও সংগঠনের ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট সম্পাদক আদনান এর সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য হাফেজ আব্দুল মুনতাকিম।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, নতুন প্রজন্মকে সঠিক শিক্ষা, নৈতিকতা ও সাংস্কৃতিক চর্চার মাধ্যমে গড়ে তুলতে পারলেই একটি সমৃদ্ধ ও আলোকিত সমাজ প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব। শিক্ষার্থীদের শুধু পাঠ্যবইয়ের মধ্যেই সীমাবদ্ধ না রেখে তাদের সৃজনশীলতা বিকাশে এ ধরনের আয়োজন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষক, অভিভাবক ও সমাজের সকল স্তরের মানুষকে একসাথে কাজ করতে হবে। বিশেষ করে অভিভাবকদের আরও দায়িত্বশীল হতে হবে, যাতে তারা সন্তানদের নিয়মিত খোঁজখবর রাখেন এবং তাদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে পারেন।
সংসদ সদস্য বলেন, বর্তমান সময়ে শিক্ষার্থীদের মোবাইল ফোন ও ডিজিটাল ডিভাইসের অতিরিক্ত ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে পরিবার থেকেই সচেতনতা গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, “আজকের শিশুরাই আগামী দিনের নেতৃত্ব দেবে। তাই তাদের সঠিক দিকনির্দেশনা দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব।”
তিনি শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে আরও বলেন, পড়াশোনার পাশাপাশি খেলাধুলা, সাহিত্য-সংস্কৃতি ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত থাকলে তাদের মেধা ও মনন বিকশিত হবে, যা ভবিষ্যতে দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালে অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে সততসঞ্চারী-এর আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়।