বগুড়ার দুপচাঁচিয়ায় দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রীকে(৮) ধর্ষণের অভিযোগে ইদ্রিস আলী(৬২) নামের এক ব্যক্তিকে ৪মে সোমবার রাতে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃত ইদ্রিস নওগাঁ জেলার বদলগাছী উপজেলার হলুদ বিহার এলাকার মৃত আক্কাস আলীর ছেলে ও ব্র্যাক দুপচাঁচিয়া শাখার সাবেক হিসাব রক্ষক কর্মকর্তা। বর্তমানে তিনি দুপচাঁচিয়া পৌর এলাকার ধাপসুখানগাড়ী মহল্লায় ভাড়া বাসায় বসবাস করেন। গত ৪মে সোমবার সন্ধ্যা ৭টায় সময় এ ধর্ষণের ঘটনাটি ঘটে।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, দুপচাঁচিয়া সরকারি মডেল প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ২য় শ্রেণির ছাত্রী ঘটনারদিন সন্ধ্যা ৭টার সময় ইদ্রিস আলীর স্ত্রী গুলশান আরা আন্নার কাছে প্রাইভেট পড়তে যায়। এসময় গুলশান আরা বাড়িতে না থাকার সুযোগে ইদ্রিস আলী ভুক্তভোগী ছাত্রীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে জোরপূর্বক ধর্ষণ করে। ভুক্তভোগী ছাত্রী বাড়িতে এসে বিষয়টি তার মাকে জানালে ওইদিন দিবাগত রাতে তার বাবা জাহিদুল ইসলাম বাদী হয়ে দুপচাঁচিয়া থানায় একটি ধর্ষণ মামলা দায়ের করেন। মামলা গ্রহণের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার আসামী ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তার করে। এদিকে এ ধর্ষণের ঘটনায় ৫মে মঙ্গলবার সকালে ওই বিদ্যালয়ের অভিভাবকরা উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও থানার অফিসার ইনচার্জ এর সঙ্গে সাক্ষাত করে ধর্ষক ইদ্রিস আলীর দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী জানান। এর পরপরই বিক্ষুদ্ধ অভিভাবক ও এলাকাবাসী দুপুর ১২টার সময় বগুড়া-নওগাঁ মহাসড়কের থানা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় প্রায় এক ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করতে থাকেন। এসময় রাস্তার দু’পাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে। পরে দুপচাঁচিয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র জাহাঙ্গীর আলম, থানার পুলিশ পরিদর্শক(তদন্ত) নাসিরুল ইসলাম ও পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আখতারুজ্জামান তুহিন, স্কুলের প্রধান শিক্ষক নূরে আলম সিদ্দিকী বিক্ষুদ্ধ জনতার সঙ্গে একাত্মতা প্রকাশ করেন এবং দ্রæত বিচার আইনে এই ধর্ষকের দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি আশ্বাস দিলে বিক্ষুদ্ধরা অবরোধ তুলে নেয়।
দুপচাঁচিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ তাজমিলুর রহমান জানান, ভিকটিমের বাবা মামলা দায়েরের পরপরই পুলিশ অভিযান চালিয়ে মামলার একমাত্র আসামী ইদ্রিস আলীকে গ্রেপ্তার করেছে। ভিকটিম বর্তমানে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে(শজিমেক) চিকিৎসাধীন রয়েছে। গ্রেপ্তারকৃত ইদ্রিস আলীকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
#