গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর উপজেলার ঢোলভাঙ্গা হাই স্কুল ও কলেজে শিক্ষকদের অনিয়মিত উপস্থিতি, দায়িত্বে অবহেলা এবং প্রশাসনিক শিথিলতার কারণে শিক্ষার পরিবেশ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। দীর্ঘদিন ধরে কয়েকজন শিক্ষক বিদ্যালয়ে নিয়মিত পাঠদান না করেও হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করে ব্যক্তিগত কাজে সময় কাটাচ্ছেন বলে স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহলের দাবি।
অভিযোগ রয়েছে, ঢোলভাঙ্গা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের হাই স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান এবং ডেমনেস্ট্রেটর আজাদুল ইসলাম—যিনি পলাশবাড়ী উপজেলা যুবলীগের সভাপতিও—প্রতিনিয়ত বিদ্যালয়ে উপস্থিতির খাতায় স্বাক্ষর করলেও শিক্ষার্থীদের পাঠদান না করে নিজ নিজ ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিগত কাজে সময় ব্যয় করেন।
রবিবার (৩ মে) দুপুর ১২টায় বিদ্যালয় চলাকালীন সময়ে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজিরা খাতায় তাদের স্বাক্ষর থাকলেও বিদ্যালয়ে তাদের শারীরিক উপস্থিতি পাওয়া যায়নি।
এ বিষয়ে অধ্যক্ষ সারোয়ারী আলম রাব্বীর কাছে জানতে চাইলে তিনি দায়সারাভাবে বলেন, “এখন তাদের ক্লাস নেই। ক্লাসের সময় হলে তারা ক্লাস নিতে আসবেন।”
তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়; বরং দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষকদের এমন অনিয়ম যেন নিয়মে পরিণত হয়েছে। এতে শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় চরম বিঘ্ন ঘটছে এবং শিক্ষার মান দিন দিন নিম্নমুখী হচ্ছে।
তথ্য অনুসন্ধানে জানা যায়, শিক্ষকদের ইচ্ছামতো বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া, দায়িত্বে অবহেলা এবং নানা প্রশাসনিক অনিয়মের প্রতিকার চেয়ে স্থানীয় অভিভাবকরা ২০ আগস্ট ২০২৪ তারিখে গাইবান্ধা জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন।
এর প্রেক্ষিতে জেলা শিক্ষা অফিসার তদন্ত করে ৯ এপ্রিল ২০২৫ তারিখে জে.শি.অ./গা./২০২৫/৩৫৮ নম্বর স্মারকে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করেন।
তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, স্কুল শাখার সহকারী শিক্ষক মোঃ আমিনুর রহমান সভাপতি’র ভাই হওয়ায় এবং আজাদুল ইসলাম দলীয় নেতা হওয়ার সুবাদে তাদের অনিয়মিত উপস্থিতির বিষয়টি প্রতিষ্ঠান প্রধান যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণে আনতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রতিবেদনে প্রতিষ্ঠান প্রধানের অদক্ষতা ও খামখেয়ালিপনার বিষয়টিও স্পষ্টভাবে উঠে আসে।
স্থানীয় সচেতন মহল বলছেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমন অনিয়ম চলতে থাকলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে। তারা দ্রুত প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা এবং শিক্ষার সুষ্ঠু পরিবেশ ফিরিয়ে আনার দাবি জানিয়েছেন।