গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় আগাম বর্ষা ও টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে বিস্তীর্ণ কৃষিজমি পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে বোরো ধানসহ মৌসুমি ফসল ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয় কৃষকরা।
উপজেলার কিশোগাড়ী, হোসেনপুর, মহদীপুর ও বেতকাপা ইউনিয়নের নিম্নাঞ্চলে ঘুরে দেখা যায়, অধিকাংশ জমিতে হাঁটু থেকে কোমরসমান পানি জমে আছে। উজান থেকে নেমে আসা পানির চাপ ও অব্যাহত বৃষ্টির কারণে অনেক জায়গায় আধাপাকা ধান পুরোপুরি পানির নিচে চলে গেছে। পানি প্রতিদিনই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
ফসল ঘরে তোলার মৌসুমে এমন পরিস্থিতিতে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন কৃষকেরা। অনেকেই ঝুঁকি নিয়ে পানির মধ্যেই ধান কাটার চেষ্টা করছেন, তবে তা ব্যয়বহুল ও শ্রমসাধ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে।
শ্যামপুর এলাকার কৃষক মজিত জানান, “এই ধানেই আমাদের সারা বছরের আশা ছিল। কিন্তু পানি এসে সব শেষ করে দিচ্ছে, এখন কীভাবে সংসার চলবে বুঝতে পারছি না।”
পলাশবাড়ী উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা সাজ্জাত হোসেন সোহেল জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় জমিতে পানি জমে থাকলে ধানের শিকড় পচে যেতে পারে এবং উৎপাদন ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে। বিশেষ করে নিন্মঞ্চলের ফসল দ্রুত নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা বেশি।
উপচেলার ছোট ছোট চরাঞ্চলের মানুষের জীবিকা মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল। ধান,পাট ও চিনাবাদাম,ভুট্ট চাষই তাদের বছরের খাদ্য ও আয়ের প্রধান উৎস। এবার আগাম বৃষ্টি ও অনিয়মিত আবহাওয়ার কারণে এসব ফসল মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয়দের আশঙ্কা, পানি দ্রুত না কমলে শুধু কৃষক নয়, পুরো এলাকার কৃষি অর্থনীতিতেই বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।