সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় অটোরিক্সা চালক নাঈম হত্যার বিচারের দাবীতে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে।আজ শুক্রবার বাদ আছর ধুবিল ইউনিয়নের মালতিনগর আমতলা বাজার চত্বরে শত শত নারী-পুরুষের উপস্থিতিতে এ মানববন্ধন কর্মসূচী পালন করা হয়।
মানববন্ধনে বক্তারা নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত অন্যান্যদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি ও ফাঁসির দাবী জানান।দিনমজুর ও অসহায় অটোরিক্সা চালক নাঈম হত্যার বিচার দাবীতে উপস্থিত এলাকাবাসী শোক ও ক্ষোভে ফেটে পড়েন।ফাঁসির দাবীতে স্লোগানে স্লোগানে পুরো এলাকা মুখর করে তোলেন।
নিহতের বড় ভাই সোহেল রানা কান্নাজড়িত কণ্ঠে প্রশাসনের কাছে তার ভাই হত্যার সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন। মানববন্ধনে নিহতের ৪ বছরের শিশু সন্তান ইমরানও তার পিতার হত্যার বিচার চেয়ে উপস্থিত সবাইকে আবেগাপ্লুত করে তোলে।
ছেলের হত্যার বিচার চাইতে গিয়ে নিহতের মা বলেন,“আমার মত আর কোন মায়ের কোল যেন খালি না হয়।” এ সময় তিনি আবেগে বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েন।নিহতের স্ত্রী খাদিজা বলেন, “আমার সন্তানের মত আর কোন সন্তান যেন এতিম না হয়”এই আকুতি জানিয়ে স্বামী হত্যার বিচার চায় তিনি।
আব্দুর রহিম মাস্টারের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন,ধুবিল ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন মোহর,বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ধুবিল ইউনিয়ন শাখার সভাপতি ড.জহুরুল ইসলাম, সহ-সভাপতি আবু সাঈদ আকন্দ, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের রায়গঞ্জ উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক মাও: আব্দুল করিম সিরাজী,ধুবিল বিএনপির সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি স.ম.আনোয়ার হোসেন,জামায়াতের ধুবিল ইউনিয়ন শাখার সাধারণ সম্পাদক নুরুল্লাহ সিরাজী,ধুবিল ইউনিয়ন বিএনপি’র সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা কামাল,মুফতি মাও: আম্মার হোসাইন,মাও: আবুল কাশেম,সলঙ্গা থানা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মমিনুল ইসলাম,ধুবিল ইউপি সদস্য আবুল হোসেন,স্বেচ্ছাসেবক দল সভাপতি জিল্লুর রহমান,যুবদল নেতা ডাবলু, ধুবিল ইউনিয়ন ছাত্রদল সভাপতি আব্দুল মালেক সরকার,সাধারণ সম্পাদক আলমগীর হোসেনসহ স্থানীয় সামাজিক নেতৃবৃন্দ।
উল্লেখ্য,অটোরিক্সা ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে দুর্বৃত্তরা নাঈমকে হত্যা করে।গত বুধবার সকালে রায়গঞ্জ উপজেলার নিমগাছি খৈচালা বিল এলাকা থেকে তার গলাকাটা মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিতের দাবীতে সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।