গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দীর্ঘদিন ধরে চিকিৎসক সংকট, অবকাঠামোগত দুর্বলতা ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জামের অভাবে চিকিৎসাসেবা ভেঙে পড়ার উপক্রম হয়েছে। প্রায় তিন লক্ষাধিক মানুষের একমাত্র নির্ভরযোগ্য এই ৫০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে প্রয়োজনীয় জনবল না থাকায় রোগীরা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে মোট ৪০ জন চিকিৎসকের পদ থাকলেও বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১২ জন। ফলে ২৮টি চিকিৎসক পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের অভাবে সার্জারি, মেডিসিন, নাক-কান-গলা (ইএনটি), চর্মরোগ, হৃদরোগ, চক্ষু, অর্থোপেডিক ও শিশুরোগ বিভাগের সেবা কার্যত বন্ধ কিংবা সীমিত আকারে পরিচালিত হচ্ছে।
চিকিৎসক সংকটের কারণে অনেক রোগীকে বাধ্য হয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বড় হাসপাতালে পাঠানো হচ্ছে। এতে রোগীদের সময় ও অর্থ—দুইই অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে।
শুধু জনবল সংকটই নয়, হাসপাতালের অবকাঠামোগত সমস্যাও গুরুতর আকার ধারণ করেছে। দুটি অ্যাম্বুলেন্স থাকার কথা থাকলেও বর্তমানে মাত্র একটি সচল রয়েছে। এক্স-রে মেশিন থাকলেও প্রয়োজনীয় ফিল্মের অভাবে তা ব্যবহার করা যাচ্ছে না। ডেন্টাল চিকিৎসক থাকলেও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি না থাকায় নিয়মিত সেবা দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না।
বিদ্যুৎ সমস্যাও বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা হয়ে দাঁড়িয়েছে। হাসপাতালে জেনারেটর থাকলেও জ্বালানির অভাবে বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হাসপাতাল অন্ধকারে ডুবে যায়, যা জরুরি চিকিৎসাসেবায় মারাত্মক বিঘ্ন সৃষ্টি করছে।
এদিকে, নিরাপত্তা ব্যবস্থাও অত্যন্ত দুর্বল। স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চারপাশে বাউন্ডারি ওয়াল না থাকায় প্রায়ই চুরির ঘটনা ঘটে। এতে চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য কর্মচারীরা নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
পলাশবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. সালাউদ্দিন খান বলেন, “দ্রুত শূন্য পদ পূরণ, প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম সরবরাহ এবং অবকাঠামোগত উন্নয়ন না হলে স্বাস্থ্যসেবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।”
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত চিকিৎসক নিয়োগ ও হাসপাতালের সার্বিক উন্নয়নে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।