• বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২৬, ০৯:০০ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় তারেক রহমান কুড়িগ্রামে মেয়েদের প্রীতি হ্যান্ডবল ম্যাচ অনুষ্ঠিত দুপচাঁচিয়ায় ডিএস কেজি মাদ্রাসায় বার্ষিক সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত কৃষক কার্ডের মাধ্যমে নতুন অগ্রযাত্রার সূচনা: ড. তিতুমীর সিরাজগঞ্জে “খেলাঘর” শিশুদের প্রাণবন্ত উৎসবে নববর্ষ উদযাপন কুইজ, কবিতা ও চিত্রাঙ্কণে মাতলো সৈয়দপুর; পহেলা বৈশাখে ‘সততসঞ্চারী’র অনুষ্ঠান দুপচাঁচিয়ায় সাকসেসফুল স্টুডেন্টস এসোসিয়েশনের মেধা বৃত্তি পরীক্ষার ফলাফল প্রকাশ বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে দুপচাঁচিয়ায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও লোকজ মেলা উল্লাপাড়ায় বর্ণাঢ্য আয়োজনে পহেলা বৈশাখ উদযাপন কিশোরগঞ্জে গ্ৰামীন সাঁজে জাঁকজমক পূর্ণ বৈশাখী শোভাযাত্রা

আজ বিশ্ব স্বাস্থ্য দিবস: চাহিদা ১২২ জন চিকিৎসকের, আছেন ২৩ জন, জনবল সংকট সহ নানা সংকটে ধুকছে কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা হাসপাতাল

কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি / ৩৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ৭ এপ্রিল, ২০২৬

40

 

দারিদ্র নিপীড়িত উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামের একমাত্র সদর হাসপাতালে চিকিৎসক সংকট চরমে। আর এই হাসপাতালে মোট চিকিৎসক মাত্র ২৩ জন। এই ২৩ জন দিয়েই চলে বহি:বিভাগ ও ভর্তি হওয়া রোগীদের চিকিৎসাসেবা। প্রতিদিন হাসপাতালের বহি:বিভাগে চিকিৎসা নিতে আসেন প্রায় ৫০০ থেকে ৭০০ রোগী আর হাসপাতালেই ভর্তি থাকেন ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী। গ্রীষ্মকালে এই ভর্তি সংখ্যা কখনও ছাড়িয়ে যায় ১ হাজারেরও উপরে। রোগীদের অভিযোগ তারা কাঙ্খিত সেবা পাচ্ছে না। আর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে জনবল সংকটের কারনে ব্যহত হচ্ছে স্বাস্থ্যসেবা, বারবার আবেদন করেও পাওয়া যাচ্ছেনা চিকিৎসক। সব মিলিয়ে এই হাসপাতালই যেন হয়ে পড়েছে অসুস্থ।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বলছে, ২০১৭ সালে কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালটি ২৫০ শয্যায় উন্নীত হলেও গেল ৯ বছরে নতুন করে জনবল নিয়োগ হয়নি। ১০০ শয্যার জনবল দিয়েই স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম চলছে। ওই ১০০ শয্যার জনবলের অনেক পদ শূন্য রয়েছে। ২৫০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎসক প্রয়োজন ১২২ জন। কিন্তু সেই অনুমোদন এখনো পায়নি হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। ১০০ শয্যার জনবল দিয়ে চলছে চিকিৎসা সেবা। সেখানেও রয়েছে জনবলসংকট। ১০০ শয্যার হাসপাতালের জন্য চিকিৎসকের পদ রয়েছে ৪৩টি। তবে বর্তমানে চিকিৎসক আছেন ২৩ জন। হাসপাতালের তত্বাবধায়ক ১ জন রয়েছে। কিন্তু ১০ জন সিনিয়র কনসালট্যান্ট থাকার কথা থাকলেও আছে ১ জন বাকি ৯টি পদই শূন্য। সিনিয়র কনসালটেন্ট এনাসথেশিয়া রয়েছে ১ জন। জুনিয়র কনসালট্যান্ট ১২ জন থাকার কথা থাকলেও রয়েছে ৭ জন। মেডিকেল অফিসার ৮ জন। এছাড়া আর অন্যান্য বিভাগের চিকিৎসক রয়েছে ৫ জন। বদলি জনিত কারণে চিকিৎসকদের ১৯ টি শুণ্যপদ রয়েছে।

আর স্টাফ নার্সের ১১টি পদের বিপরীতে কাজ করছেন ৮ জন। সিনিয়র স্টাফ নার্স- ১৫২ কাজ করে ১৪৪ জন, মিডওয়াইফারি ৬ জনের বিপরীতে কাজ করে ১ জন। নেই প্রশাসনিক কর্মকর্তা, অকুপেশনার থেরাপিস্ট, সেবা তত্ত্বাবধায়ক।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়: কুড়িগ্রাম ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের দুই তলা বিশিষ্ট একটি পুরানো ভবন, একটি আলাদা ডাইরেয়িয়া (শিশু ওয়ার্ড) ও ৮ বিশিষ্ট নতুন ভবনে চলছে চিকিৎসা সেবা। নাজেহাল পুরাতন ভবনে পুরুষ সার্জারী ওয়ার্ড, গাইনি ওয়ার্ড রয়েছে।

রোগীরা বলছে, তারা চাহিদামত স্বাস্থ্য সেবা পাচ্ছে না। পুরুষ সার্জারী বিভাগে ভর্তি থাকা মাইদুল ইসলাম জানালেন, এখানে তিনি ঠিকমত সেবা পাচ্ছেন না। ডাক্তার আসে দিনে একবার। খাবার আনতে হয় রোগী বা রোগীর আত্নীয়কে গিয়ে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ খাবার পৌছে দেয় না। তিনি অভিযোগ করে জানালেন, এখানকার যে বাথরুমগুলো অপরিষ্কার থাকে। যাওয়াই যায়না।’ আরেক রোগী আব্দুল আজিজের অভিযোগ, নার্সদের ডাকলে তারা ঠিকমত আসে না।’

নতুন ভবনে রোগীদের ওয়ার্ডগুলো কিছুটা পরিষ্কার থাকলেও সিড়ির আশপাশ আর বাথরুমের অবস্থা নাজেহাল। কেবিনের বেলকোনিগুলো যেন ডাস্টবিন। কেবিনে ভর্তি থাকা একজন রোগীর স্বজন শরীফা বেগমের অভিযোগ, তার কেবিনের বাথরুমটি প্রায় অচল- অপরিষ্কার। বারবার কর্তৃপক্ষকে বলেও দিনি এর কোনো সুরাহা করতে পারছেন না।’

বহি:বিভাগে রোগীদের অসহনীয় চাপ, দীর্ঘ লাইন পেরিয়ে হাসপাতালের টিকিট কাউন্টার থেকে বক্কর (৪০) নামের এক রোগী কাটলেন টিকিট। তিনি জানালেন, টিকেট কাঁটতেই লাগলো ৩০ মিনিট। এখন ডাক্তার দেখাইতে যে কতক্ষণ লাগে কে জানে? আসমা খাতুন তার ৮ বছর বয়সী নাতীর জ্বর আর স্বদির চিকিৎসার জন্য ৪০ কিলোমিটার পথ পেরিয়ে এসেছেন কুড়িগ্রাম সদর হাসপাতালে। তিনি বললেন, গ্রামে ভালো ডাক্তার নাই, তাই নাতীকে নিয়ে এসেছেন এই হাসপাতালে। টিকেট কেটে এখন তিনি দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে। লাইন পেরিয়ে তিনি কখন দেখাতে পারবেন নাতীকে তা নিয়ে তিনি অনিশ্চিত।

ইকোমেশিন বিকল প্রায় ১ বছর ধরে:
প্রতিদিন গড়ে ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর হার্টের রোগী আসে এই সদর হাসপাতালে আর তাদের প্রায় করাতে হয় ইকো পরীক্ষা। এই মেশিন দিয়ে হার্ট (হৃদযন্ত্রের) গঠন ও কার্যকারিতা সম্পর্কে বিস্তারিত ধারণা পায় চিকিৎসকরা। এছাড়া এর মাধ্যমে হার্টের বিভিন্ন জটিল রোগ দ্রুত ও নির্ভুলভাবে নির্ণয় করা সম্ভব হয়। সরকারির খরচে ইকো করাতে লাগে ২০০ টাকা আর বাহিরে ইকো করাতে প্রয়োজন হয় ১২০০ থেকে ১৫০০ টাকা। তবে জেলা শহরের হাসপাতাল টিতে নষ্ট হয়ে পড়ে আছে ইকো মেশিন। আর রোগীদের গুণতে হচ্ছে বাড়তি টাকা। ৫০ বছর বয়সী কমল রবিদাস বুকে ব্যথা নিয়ে এসেছেন হাসপাতালে। চিকিৎসক তাকে দিয়েছেন ইকো পরীক্ষা। তবে মেশিন নষ্ট থাকায় তাকে নিতে হচ্ছে বাইরের হাসপাতালে। তার সাথে থাকা তার পুত্র বিমল কুমার রবিদাস উল্লেখ করলেন ভোগান্তির কথা। তিনি জানালেন, ‘এখন বাবাকে নিয়ে যেতে হচ্ছে অন্য হাসপাতালে। এতে করে ভোগান্তির সাথে বাড়ছে খরচও।’

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ যা বলছে:
হাসাপাতালের সার্বিক বিষয়ে কথা হয় দায়িত্বরত আবাসিক চিকিৎসক নিসর্গ মেরাজ চৌধুরীরর সাথে তিনি এ হাসপাতালে এসেছেন ৫ মাস আগে। তিনি জানান, হাসপাতালে সংকট অনেক। তবুও আমরা চেষ্টা করে যাচ্ছি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য। তিনি পরিসংখ্যান উল্লেখ করে বললেন, ২৫০ শয্যার হাসপাতালে চিকিৎসক থাকার কথা ১২২ জন অথচ চিকিৎসক আছে ২৩ জন। আর রোগী ভর্তি থাকে ৪০০ থেকে ৫০০ জন তবুও আমরা চেষ্টা করছি রোগীদের সেবা দেওয়ার জন্য। তার দাবি, জরুরি ভিত্ততে এই হাসপাতালে প্রয়োজন আইসিইউ ও চিকিৎসক।

হাসপাতালের তত্বাবধায়ক নুর নেওয়াজ আহমেদ অভিযোগের সত্যতা স্বীকার করে বললেন সংকটের কথা। তিনি জানালেন, তার যোগদানের পর তিনি বারবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে আবেদন করেছেন চিকিৎসকের জন্য, তবে কাজ হচ্ছেনা। যে সীমিত জনবল রয়েছে তা দিয়ে তিনি রোগীদের সর্বোত্তম সেবা দেওয়ার চেষ্ঠা করছেন। তিনি আরো জানান, এখন একমাত্র জনবলের নিয়োগই পারে এই সমস্যার সমাধান করতে।’


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা