গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে জমি সংক্রান্ত বিরোধের জেরে চাচা কফিল উদ্দিন মাস্টারকে (৬৫) লাঠি দিয়ে পিটিয়ে হত্যা করেছেন ভাতিজা আব্দুল জলিল। মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকালে উপজেলার হরিরামপুর ইউনিয়নের হরিপুর (মধ্যপাড়া) গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।নিহত কফিল উদ্দিন ওই গ্রামের মৃত ফজর আলীর ছেলে। তিনি রামচন্দ্রপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত সহকারী প্রধান শিক্ষক ছিলেন।
এছাড়াও অভিযুক্ত আব্দুল জলিল একই গ্রামের সামসুলের ছেলে এবং হরিরামপুর ইউনিয়নের বর্তমান ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য।
নিহতের পরিবার ও পুলিশ জানায়, সকালে কফিল উদ্দিন বাড়ির পাশের জমিতে ধান কাটতে গেলে জলিলসহ তার পরিবারের লোকজন বাধা দেয়। এ সময় কথা কাটাকাটির একপর্যায়ে কফিল উদ্দিনকে পেটাতে থাকে। এতে ঘটনাস্থলেই কফিল উদ্দিনের মৃত্যু হয়। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে। জমিটি নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে।নিহতের মেয়ে কামরুন নাহার কনা বলেন, দীর্ঘদিন থেকে জমি নিয়ে আমাদের সাথে প্রতিপক্ষের বিরোধ চলে আসছিল। এসব নিয়ে থানা ও আদালতে তিনটি মামলা হয়েছে। কিন্তু আমরা কারো কাছে কোনো সহায়তা পাইনি।
তিনি বলেন, আজকের হত্যাকারীরা আমাদের ওয়ারিশ। তারা গোপনে একটি জমি জাল রেজিস্ট্রি করে নেয়। বিষয়টি নিয়ে আমার পরিবার প্রতিবাদ জানায় এবং আদালতে মামলা করে। পরে তারই জেরে তারা আমার মাকে মারধর করে প্রায় পা ভেঙে দেয়। পরে এ ঘটনায় আমরা থানায় মামলা করি। যা চলমান রয়েছে। পরে ওই জমিতে আমার বাবা ধান রোপণ করতে গেলে তারা বাধা দেয় এবং সেই সময়ে সদ্য রোপণ করা ধান গাছ ওপরে ফেলে। তখনো আমরা আইনগত ব্যবস্থা নিই। কিন্তু আইনের ওপর আস্থা রেখেও আজ আমার বাবাকে হারালাম।
তার দাবি, জমির ঘটনাগুলো আমাদের চেয়ারম্যান, এসি ল্যান্ডসহ স্থানীয় মাতব্বর ও পুলিশ সবাই জানে। তারা এও জানে জমি প্রকৃতভাবে আমাদের কিন্তু আমরা প্রতিকার পাচ্ছি না।ঘটনাস্থলে থাকা গোবিন্দগঞ্জ থানা পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) আখতার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। ময়নাতদন্তের জন্য মরদেহ গাইবান্ধা জেনারেল হাসপাতালে পাঠানো হবে। ঘটনাটি জমি নিয়ে দ্বন্দ্বে। এর আগেও এ সংক্রান্ত মামলা রয়েছে। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে, তারা সবাই পলাতক।