বগুড়ার শেরপুর পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কারও ৩০ মাস, কারও আবার ৫৬ মাসের বেতন বকেয়া রয়েছে। দীর্ঘদিন বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন তারা। এমন পরিস্থিতিতে বকেয়া বেতনের দাবিতে সোমবার সকাল থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। একই সঙ্গে ইজারা ছাড়াই শেরপুরের ঐতিহ্যবাহী বারোদুয়ারী হাটে খাজনা আদায়ের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তারা।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, নিয়ম অনুযায়ী বাংলা চৈত্র মাসের মধ্যেই বারোদুয়ারী হাটের ইজারা কার্যক্রম সম্পন্ন হওয়ার কথা। চলতি অর্থবছরে হাটটির ইজারা মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৮৪ লাখ টাকা। নির্ধারিত সময়ে দরপত্র আহ্বান করা হলেও কোনো অংশগ্রহণকারী না থাকায় বৈশাখ মাসের শুরু থেকে পৌরসভার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় খাস আদায়ের মাধ্যমে রাজস্ব তহবিলে জমা হওয়ার কথা ছিল।
তবে অভিযোগ উঠেছে, সরকারি প্রক্রিয়া অনুসরণ না করে একটি চক্র ইজারা ছাড়াই হাটে খাজনা আদায় করছে। এতে রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় অনিয়ম ও দুর্নীতির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
পৌরসভার টিকাদানকারী আফরুজা বেগম বলেন, “একদিকে টাকার অভাবে আমাদের বেতন দেওয়া হচ্ছে না, অন্যদিকে ইজারা ছাড়াই হাটের খাজনা তোলা হচ্ছে। কারা তুলছে, তা জানতে চাইলে কেউ স্পষ্ট উত্তর দেয় না। মনে হচ্ছে একটি সিন্ডিকেট পৌরসভার টাকা লুটপাট করছে। অথচ আমরা বেতন না পেয়ে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছি।”
সোমবার সরেজমিনে বারোদুয়ারী হাটে গিয়ে খাজনা আদায়ের সত্যতা পাওয়া যায়। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, নিয়মিতভাবে দোকান ও ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে খাজনা আদায় করা হচ্ছে।
কাঁচাবাজারের ব্যবসায়ী নূরুল ইসলাম বলেন, “এখানে প্রতিদিন দোকান বসে, আর প্রতিদিনই খাজনা নেওয়া হয়।”
মাছ ব্যবসায়ী শাহিন আলম জানান, “সোমবার ৩০ টাকা আর বৃহস্পতিবার ৪০ টাকা করে খাজনা নেওয়া হয়।”
আরেক মাছ ব্যবসায়ী আলম শেখ বলেন, “আগে যারা খাজনা নিত তারা আর আসে না। তিন হাট ধরে নতুন লোক এসে টাকা নিচ্ছে।”
মুদিদোকানি টিংকু সাহা অভিযোগ করে বলেন, “হাট এখনও ইজারা হয়নি জেনেছি। অথচ ইজারাদারের পরিচয়ে নিয়মিত আমার কাছ থেকে ১৫০ টাকা নেওয়া হচ্ছে। এতে ব্যবসা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।”
পান বিক্রেতা মদন কুমার চাকী বলেন, “একই দোকান থেকে দুইবার খাজনা নেওয়া হচ্ছে। এটা সম্পূর্ণ অন্যায়।”
ব্যবসায়ীদের অভিযোগ, স্থানীয় এক ব্যক্তি সোহেল রানার লোকজন এই খাজনা আদায় করছেন। তবে সোহেল রানা মোবাইল ফোনে দাবি করেন, “আমি ইজারাদার নই। পৌর কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলেই খাস আদায় করা হচ্ছে।”
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসনিক কর্মকর্তা ইমরোজ মুজিব বলেন, “গত অর্থবছরে একটি নির্দিষ্ট ব্যবস্থাপনায় খাস আদায় করা হয়েছিল। এবারও সেটি হওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে কীভাবে আদায় হচ্ছে, তা আমার জানা নেই।”
অন্যদিকে শেরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পৌর প্রশাসক মো. সাইদুজ্জামান হিমু বলেন, “টেন্ডার আহ্বান করার পরও কেউ অংশগ্রহণ করেনি। ফলে পৌর কর্মচারীদের মাধ্যমে খাস আদায়ের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে সোমবার কর্মবিরতির কারণে আদায় হয়নি। অন্য কেউ খাজনা আদায় করে থাকলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও পৌর কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ ও ক্ষোভ বিরাজ করছে। দ্রুত তদন্ত করে অনিয়ম বন্ধ এবং বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।