বগুড়ার শেরপুর উপজেলার বথুয়াবাড়ি ও শালফা গ্রাম এখন ভুট্টার এক অনন্য বাণিজ্যকেন্দ্রে পরিণত হয়েছে। হঠাৎ গড়ে ওঠা ইজারাহীন এই বাজারের সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো এর ব্যতিক্রমী সময়সূচি। দিনের আলোতে কেনাবেচা চললেও বাজারটি মূলত প্রাণ ফিরে পায় সন্ধ্যার পর; যেন নিঝুম রাতেও জেগে ওঠে সোনালী স্বপ্নের এক ব্যস্ত নগরী। সারাদিন মাঠের তপ্ত রোদে ভুট্টা সংগ্রহ, খোসা ছাড়ানো আর শুকানোর ক্লান্তিকর কাজ শেষে প্রান্তিক কৃষকরা যখন ঘামঝরা ফসল নিয়ে বাজারে পৌঁছান, তখনই শুরু হয় মূল ব্যস্ততা। সন্ধ্যা থেকে গভীর রাত (১১টা-১২টা) পর্যন্ত চলে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ। শেরপুর ছাড়াও পার্শ্ববর্তী ধুনট এবং সিরাজগঞ্জের কাজিপুর উপজেলার হাজার হাজার চাষির সমাগমে মৌমাছির গুঞ্জনের মতো মুখরিত হয়ে ওঠে পুরো এলাকা।
শেরপুর-ধুনট আঞ্চলিক সড়কের পাশে গড়ে ওঠা দুটি বাজারে অসংখ্য মহাজন ও বড় বড় গুদাম রয়েছে, যেখানে দিনভর চলে পণ্য লোড-আনলোডের বিরামহীন কাজ। কৃষকদের থেকে কেনা ভুট্টা গুদামে দুই-একদিন মজুদ রাখার পর অন্য এলাকার বড় ব্যবসায়ীরা এসে তা ক্রয় করে ট্রাকে করে নিয়ে যান দেশের বিভিন্ন গন্তব্যে। এই বিশাল জনসমাগমকে কেন্দ্র করে বাজার এলাকায় স্থায়ী দোকানের পাশাপাশি মাশরুমের মতো গড়ে উঠেছে বেশ কিছু অস্থায়ী ভাতের হোটেল ও চায়ের দোকান। এসব দোকানে বেচাবিক্রি আশাতীত ভালো হওয়ায় এলাকার শ্রমজীবী মানুষের জন্য তৈরি হয়েছে বাড়তি আয়ের এক নতুন পথ। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের তথ্য মতে, রাতের এই জমজমাট বাজারে প্রতিদিন জোয়ারের বেগের মতোই কোটি টাকার উপরে লেনদেন হচ্ছে। বাজারে আগত ভুট্টা বিক্রেতা ধুনট উপজেলার শাঁকদহ গ্রামের শামসুল হক জানান- যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো ও দাম ভালো পাওয়ার জন্য এই বাজারে আসি। দিনের নীরবতা ভেঙে রাতের এই আলোকোজ্জ্বল বাজারটি এখন বথুয়াবাড়ি ও শালফা গ্রামের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।