আসন্ন পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলায় কুরবানির পশু প্রস্তুত করেছেন স্থানীয় খামারিরা। উপজেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্যমতে, এবার উপজেলায় মোট ৬০ হাজার ৮০০টি পশু কুরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৭ হাজার ৮১৫টি ষাঁড়, ৪ হাজার ৪৬০টি বলদ, ১০ হাজার ৬৫টি গাভী, ২২ হাজার ৮৩৫টি ছাগল এবং ৫ হাজার ৬৫৫টি ভেড়া।
উপজেলায় কুরবানির পশুর চাহিদা রয়েছে ৪৩ হাজার ২৪৪টি। সেই হিসাবে প্রায় ১৭ হাজার ৫৮৬টি পশু উদ্বৃত্ত থাকবে। স্থানীয় চাহিদা পূরণ করে উদ্বৃত্ত পশু ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
এদিকে পশু কেনাবেচার সুবিধার্থে শিবগঞ্জ উপজেলায় ৩টি স্থায়ী ও ৯টি অস্থায়ী পশুর হাট প্রস্তুত করা হয়েছে। ইতোমধ্যেই হাটগুলোতে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা শুরু হয়েছে।
আটমূল ইউনিয়নের কুড়াহার মাষ্টার পাড়া গ্রামের খামারি আশিকুর রহমান ধলু বলেন, এবার কুরবানির জন্য আমি ২৬ টি গরু প্রস্তুত করেছি। সারা বছর অনেক যত্ন করে গরুগুলো লালন-পালন করেছি। এবার বাজার ভালো হলে লাভের আশা করছি।
কিচক ইউনিয়নের সাতপাড়া গ্রামের খামারি মোরশেদ বলেন,এবার কোরবানির জন্য আমার খামারে ৫৮ টি গরু প্রস্তুত করেছি।ইতিমধ্যে ৩৮ টি গরু বিক্রি হয়েছে।প্রাণিসম্পদ বিভাগের কর্মকর্তারা খামারে এসে বিভিন্ন সময় পরামর্শ দিয়েছেন। কোন খাবার দিলে পশু সুস্থ থাকবে, কীভাবে পরিচর্যা করতে হবে—এসব বিষয়ে সহযোগিতা পেয়েছি। কোনো ক্ষতিকর ওষুধ ব্যবহার না করেই পশু প্রস্তুত করেছি।”
উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ড.মোঃ মাহবুব হাসান চৌধুরী বলেন, “ঈদকে সামনে রেখে উপজেলার খামারগুলোতে নিয়মিত তদারকি করা হচ্ছে। সুস্থ ও নিরাপদ পশু নিশ্চিত করতে হাট-বাজারে মেডিকেল টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে, যাতে কোনো রোগাক্রান্ত গোবাদি পশু কেনাবেচা না হয়। এছাড়া খামারিদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।”
তিনি আরও জানান, নিরাপদ ও স্বাস্থ্যসম্মত কুরবানির পশু সরবরাহ নিশ্চিত করতে প্রাণিসম্পদ বিভাগ সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।