একটি বেসরকারি সংবাদমাধ্যমে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের দেওয়া সাম্প্রতিক সাক্ষাৎকার নিয়ে দেশজুড়ে চলমান আলোচনার প্রেক্ষিতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘জাতীয় ছাত্রশক্তি’ আয়োজিত এক সেহরি অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে তিনি রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যকে ‘জনগণকে ভুল বোঝানোর অপচেষ্টা’ হিসেবে অভিহিত করেন।
আসিফ মাহমুদ বলেন, রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার শাসনামলে। শেখ হাসিনা সচেতনভাবেই এমন একজনকে এই পদে বসিয়েছিলেন যার ব্যক্তিত্ব তার চেয়ে বেশি শক্তিশালী না হয়। রাষ্ট্রপতির সাম্প্রতিক বক্তব্যে এক ধরনের ‘ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ’ ঘটেছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, “এসব বিষয় সামনে আসা প্রয়োজন ছিল। এতে দেশের মানুষ জানতে পারছে অতীতে কারা শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিয়েছে এবং কাদের ওপর রাজনৈতিকভাবে নির্ভর করতে হয়েছে।”
জুলাই গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী রাজনৈতিক বাস্তবতার কথা উল্লেখ করে সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশের মানুষ এখন রাজনৈতিকভাবে অনেক বেশি সচেতন। নতুন করে কোনো ‘ফ্রেমিং’ বা ‘বয়ান’ তৈরি করে জনগণকে বিভ্রান্ত করার সুযোগ আর নেই। একের পর এক যেসব ঘটনা বা ‘পর্ব’ সামনে আসছে, সেগুলো দেখতে আকর্ষণীয় মনে হলেও সাধারণ মানুষের মনে তা বড় কোনো প্রভাব ফেলতে পারবে না।
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি এককভাবে অংশ নেবে এবং ইতোমধ্যে মেয়র পদে প্রার্থী দেওয়ার সাংগঠনিক প্রস্তুতি শুরু হয়েছে। তিনি দ্রুত নির্বাচনের রূপরেখা দেওয়ার দাবি জানান।
সংবিধান সংস্কার পরিষদের শপথ না নেওয়াকে বিএনপির ‘নিজেদের সাথেই প্রতারণা’ বলে অভিহিত করেন তিনি। বিএনপি সংসদ সদস্যদের প্রথম অধিবেশনের আগেই এই শপথ নেওয়ার আহ্বান জানান আসিফ মাহমুদ।
সংসদে এবং রাজপথে ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।