ডিজিটাল বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয়ে দেশের প্রান্তিক ও নিম্নবিত্ত মানুষের জীবনমান উন্নয়নে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) সকালে রাজধানীর বনানীর কড়াইল বস্তিসংলগ্ন টিঅ্যান্ডটি খেলার মাঠে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির শুভ উদ্বোধন করেন। এই প্রকল্পের আওতায় নির্বাচিত প্রতিটি পরিবার প্রতি মাসে ২ হাজার ৫০০ টাকা করে সরাসরি আর্থিক সহায়তা পাবে।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী জানান, আধুনিক ও স্বচ্ছ ডিজিটাল পদ্ধতিতে এই ভাতার অর্থ সরাসরি উপকারভোগীদের মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক হিসাবে পৌঁছে যাবে। ফলে মাঝপথে অর্থ লোপাটের কোনো সুযোগ থাকবে না এবং প্রকৃত দুস্থরাই এই সুবিধার সুফল পাবেন। তিনি আরও বলেন, সরকার সবসময় সাধারণ মানুষের পাশে আছে এবং এই কর্মসূচি নিম্ন আয়ের মানুষের অর্থনৈতিক সক্ষমতা বৃদ্ধিতে একটি মাইলফলক হিসেবে কাজ করবে।
প্রাথমিক পর্যায়ে পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৩টি জেলার ১৩টি সিটি করপোরেশন এবং বিভিন্ন ইউনিয়নের ১৫টি ওয়ার্ডে এই কর্মসূচি চালু করা হয়েছে। প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। সরকারের তথ্যমতে, প্রাথমিকভাবে ৫১ হাজার ৮০৫টি পরিবারের তথ্য সংগ্রহ করা হলেও নিবিড় যাচাই-বাছাই শেষে ৪৭ হাজার ৭৭৭টি পরিবারের তথ্য সঠিক পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ‘ডাবল ডিপিং’ বা দ্বৈত সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে চূড়ান্তভাবে ৩৭ হাজার ৫৬৭টি পরিবারকে ভাতার জন্য নির্বাচন করা হয়েছে।
এই প্রকল্পের অন্যতম উল্লেখযোগ্য দিক হলো ‘নারীপ্রধান’ পরিবারগুলোকে দেওয়া বিশেষ অগ্রাধিকার। সমাজের প্রান্তিক নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তুলতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। কড়াইল বস্তির মতো ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এই মানবিক প্রকল্পের সূচনা হওয়ায় স্থানীয় সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ ও উদ্দীপনা দেখা গেছে। সরকার আশা করছে, এই পরীক্ষামূলক পর্যায় সফল হলে দ্রুতই সারা দেশের সকল যোগ্য পরিবারকে এই ফ্যামিলি কার্ডের আওতায় নিয়ে আসা হবে।