মধ্যপ্রাচ্যের অন্তত পাঁচটি দেশের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা লক্ষ্য করে গত ২৪ ঘণ্টায় দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইরান। এতে অঞ্চলটির অর্থনীতি ও জনজীবনে নতুন করে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছে, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও বাহরাইনের গুরুত্বপূর্ণ অ্যালুমিনিয়াম স্থাপনাগুলোতে তারা হামলা চালিয়েছে। এসব হামলা কেবল সামরিক উত্তেজনাই বাড়ায়নি, বরং বৈশ্বিক শিল্প ও সরবরাহ ব্যবস্থার ওপরও চাপ সৃষ্টি করেছে।
আবুধাবিভিত্তিক বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অ্যালুমিনিয়াম উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান এমিরেটস গ্লোবাল অ্যালুমিনিয়াম (ইজিএ) জানিয়েছে, তাদের প্রধান কারখানায় হামলায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে এবং কয়েকজন কর্মী আহত হয়েছেন।
একই সময়ে বাহরাইনের অ্যালুমিনিয়াম বাহরাইন কারখানাতেও হামলা চালানো হয়, সেখানেও ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
এদিকে কুয়েতে আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের রাডার ব্যবস্থা লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে, যা বিমান চলাচলে বিঘ্ন ঘটাতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওমানের দক্ষিণাঞ্চলের সালালাহ বন্দরে ড্রোন হামলার ঘটনায় একজন বিদেশি কর্মী আহত হয়েছেন। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলার দায় এখনো কেউ স্বীকার করেনি এবং তদন্ত চলছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই অঞ্চল থেকে বিশ্বের মোট অ্যালুমিনিয়াম সরবরাহের উল্লেখযোগ্য অংশ আসে। ফলে এসব হামলা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এর আগে ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। বর্তমানে এই সংঘাত পঞ্চম সপ্তাহে গড়িয়েছে।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ সেনা মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছে। এতে করে উত্তেজনা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।