মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে দিয়ে ইসরায়েলের ওপর দফায় দফায় শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালাচ্ছে ইরান। সোমবার (২ মার্চ) সকাল থেকে শুরু হওয়া এই ভারী বোমাবর্ষণে ইসরায়েলজুড়ে নজিরবিহীন আতঙ্কের সৃষ্টি হয়েছে। এমনকি সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্র বা বাঙ্কারে অবস্থান নিয়েও প্রাণহানির হাত থেকে রেহাই পাচ্ছে না ইহুদিবাদীরা।
সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোববার রাতের তুলনায় সোমবার সকাল থেকে হামলার তীব্রতা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। ইসরায়েলের বিভিন্ন প্রান্তে অনবরত বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। তবে এই বিস্ফোরণগুলো ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রতিরোধের কারণে, নাকি সরাসরি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাতের ফলে ঘটছে—তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়েছে।
রোববার পশ্চিম জেরুজালেমের নিকটবর্তী বেইত শেমেশ শহরের একটি সুরক্ষিত আশ্রয়কেন্দ্রে সরাসরি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে। এই ভয়াবহ ঘটনায় রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত অন্তত ৯ জন নিহতের খবর পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, গত জুনের সংঘাতের তুলনায় এবার ইসরায়েলিদের অনেক দীর্ঘ সময় (টানা তিন ঘণ্টা পর্যন্ত) বাঙ্কারে অবস্থান করতে হচ্ছে, যা হামলার ভয়াবহতা ও তীব্রতারই বহিঃপ্রকাশ।
ইসরায়েলের ভেতরে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকলেও অধিকৃত পশ্চিম তীরের চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। সেখানে কোনো ‘হোম ফ্রন্ট অ্যালার্ট সিস্টেম’, বিমান হামলার অ্যালার্ম কিংবা পর্যাপ্ত আশ্রয়কেন্দ্র না থাকায় ফিলিস্তিনিসহ স্থানীয় বাসিন্দারা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন।
ইরানি বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সাম্প্রতিক আগ্রাসনের পাল্টা জবাব হিসেবেই এই হামলা চালানো হচ্ছে। কেবল ইসরায়েল নয়, মধ্যপ্রাচ্যের কাতার, কুয়েত, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত, ওমান ও সৌদি আরবে অবস্থিত মার্কিন সামরিক ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোকেও লক্ষ্যবস্তু করছে তেহরান।