বগুড়া সিটি কর্পোরশন গঠনের বিষয়টি একেবারে চুড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম। শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারী) দুপুরে বগুড়া জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন কথা বলেন।
তিনি এমন সময় উল্লেখ করেন বগুড়া সিটি কর্পোরেশন গঠন একেবারে দ্বারপ্রান্তে। তবে যেহেতু বগুড়া প্রধামন্ত্রী তারেক রহমানের জেলা তাই সিটি কর্পোরেশনের বিষয়ে তিনিই সিদ্ধান্ত নিবেন। তাঁর সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি চুড়ান্ত করা হবে। অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান, আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বগুড়া সফরের সম্ভাব্য কর্মসূচীটি এখনও চুড়ান্ত হয়নি। দু’একদিনের মধ্যে এ বিষয়ে চুড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানানো হবে।
এর আগে প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম মতবিনিময় সভায় অংশ নিতে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে পৌঁছালে স্থানীয় সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক তৌফিকুর রহমান তাঁকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানান। মতবিমিয় সভায় বক্তব্য রাখতে গিয়ে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম দীর্ঘ ১৭ বছর উন্নয়ন থেকে বঞ্চিত বগুড়ার কাঙ্খিত উন্নয়নে কাজ করে যাওয়ার অঙ্গীকার করেন। তিনি বলেন, বগুড়ার মানুষের বঞ্চনা রয়েছে তাই প্রচুর আশা-আকাঙ্খাও রয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলে বগুড়াকে সুন্দর করে গড়ে তুলবার জন্য জেলার সকল সংসদ সদস্য মিলে এক সঙ্গে কাজ করা হবে। মতবিনিময় সভায় অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য মোশারফ হোসেন, বগুড়া-৭ আসনের সংসদ সদস্য মোরশেদ মিলটন ও বগুড়া জেলা বিএনপির সভাপতি রেজাউল করিম বাদশাসহ জেলা ও পুলিশ প্রশাসন এবং সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের জেলা পর্যায়ের শীর্ষ কর্মকর্তা ও তাদের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
উল্লেখ্য, সিটি করপোরেশনে উন্নীত হওয়ার জন্য যেসব যোগ্যতা প্রয়োজন তার সব আছে বগুড়া পৌরসভার। সিটি কর্পোরেশনের জন্য বছরে ৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায়ের শর্ত থাকলেও বগুড়া পৌরসভা বছরে ৪০ কোটি টাকা আয় করে। জনবলের দিক থেকেও শর্ত পূরণ করেছে বগুড়া। এছাড়া আয়তনের দিক থেকেও পৌরসভাটি অনেক বড়। শিল্পকারখানা, অবকাঠামোগত বিষয়ে বগুড়া সিটি করপোরেশন হওয়ার দিক থেকে অনেক এগিয়ে। চলতি বছরের গত ২০ অক্টোবর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আবুল খায়ের মোহাম্মদ হাফিজুল্লাহ খান বগুড়ায় আসেন। তিনি বগুড়া পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করার সম্ভবতা যাচাই এবং বগুড়ার পৌরসভার গুরুত্বপূর্ন এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন।
এ বিষয়ে বগুড়া পৌরসভা যেটি রয়েছে, আটটি শর্তের সবগুলো শর্ত ফুলফিল করেছে। এবং সরেজমিনে প্রতিবেদন সাবমিট করবো হয়েছে।
পৌরসভা সূত্রে জানা যায়, বগুড়া পৌরসভাটি ১৮৭৬ সালে প্রতিষ্ঠত হয়। ১৯৮১ সালে ‘ক’ শ্রেণির মর্যাদা পায় এটি। পরে আয়তন বাড়তে বাড়তে ২০০০ সালে দাঁড়ায় ১৪ দশমিক ৭৬ বর্গকিলোমিটার। এরপর ২০০৪ সালে বর্ধিত করে ৬৯ দশমিক ৫৬ বর্গকিলোমিটার করা হয়। ২১টি ওয়ার্ড নিয়ে গঠিত বগুড়া পৌরসভা প্রায় ৭০ বর্গকিলোমিটার। সিটি করপোরেশনের জন্য আয়তন হতে হয় কমপক্ষে ২৫ বর্গকিলোমিটার। জনসংখ্যা রয়েছে প্রায় ১০ লাখ। কিন্তু বাস্তবে এই পৌরসভায় বেশি জনবসতি রয়েছে। দেশের বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের চেয়ে আয়তনেও বড়।