পবিত্র ঈদুল আযহা উপলক্ষে সারাদেশের মতো বগুড়ার দুপচাঁচিয়াতেও কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ শুরু হলেও স্থানীয় বাজারে দেখা দিয়েছে চরম অস্থিরতা। সরকার নির্ধারিত মূল্য থাকলেও মাঠপর্যায়ে তার কোনো বাস্তব প্রতিফলন নেই। ফলে কয়েক লাখ টাকা মূল্যের গরুর চামড়াও বিক্রি হচ্ছে নামমাত্র দামে। কোথাও কোথাও ক্রেতা না পেয়ে কোরবানিদাতারা চামড়া মাদরাসা ও এতিমখানায় বিনামূল্যে দান করে দিচ্ছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দুপচাঁচিয়ায় বড় গরুর চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে মাত্র ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়। মাঝারি আকারের গরুর চামড়ার দাম পাওয়া যাচ্ছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। অন্যদিকে ছাগলের চামড়া কেনাবেচা হচ্ছে মাত্র ৫ থেকে ১০ টাকায়। এতে হতাশ হয়ে পড়েছেন কোরবানিদাতা ও মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ীরা।
মাস্টারপাড়া মহল্লার কোরবানিদাতা রাসেল মন্ডল বলেন, “পশু জবাইয়ের পর চামড়া কেনার জন্য কোনো ক্রেতা না আসায় পরে বাধ্য হয়ে ডেকে এনে মাত্র ২০০ টাকায় চামড়া বিক্রি করেছি।”
কোরবানিদাতা আবু কালাম আজাদ বলেন, আমার পশুর চামড়া এতিমখানা দিয়েছি।মৌসুমি ব্যবসায়ী আব্দুল হালিম বলেন, “গ্রাম থেকে গড়ে সাড়ে ৩০০ টাকায় চামড়া কিনে এনেছি। কিন্তু এখন ক্রেতা নেই বললেই চলে। যারা কিনতে আসছেন, তারা সর্বোচ্চ ২০০ টাকা দাম বলছেন।”
চামড়া বিক্রেতা আব্দুল হোসেন বলেন, “পাইকারি ক্রেতাদের অনাগ্রহ, ট্যানারি মালিকদের ধীরগতি এবং সংরক্ষণ ব্যয়ের চাপের কারণে স্থানীয় বাজারে চামড়ার চাহিদা কমে গেছে। ফলে বাধ্য হয়ে কম দামে চামড়া বিক্রি করতে হচ্ছে।”
চামড়া ব্যবসায়ী হাসান আলী বলেন, বাইরে দেশে থেকেবিদেশি ক্রেতারা (বাহাররা) সরাসরি আমাদের দেশ থেকে চামড়া না কেনার কারণে চামড়া দামে ধস। প্রতি বছর ঈদ মৌসুমে এমন পরিস্থিতির সৃষ্টি হচ্ছে। দেশের চামড়ার শিল্প রক্ষায় ও ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।