পাট একটি বর্ষাকালীন ফসল। এবং অর্থকরী ফসল হিসেবে পাট খ্যাত। নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার কৃষকরা পাট কেটে, জাগ দিয়ে (পচিয়ে) আঁশ ছাড়ানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছে নারী-পুরুষ। এ উপজেলার কৃষকরা তাদের সোনালী স্বপ্ন বুনছেন সোনালী আঁশ ঘরে তোলার জন্য।
এই সময়ে, বর্ষার পানি ব্যবহার করে পাট পচানো এবং আঁশ ছাড়িয়ে রোদে শুকানো হয়। এরপর শুকিয়ে বাজারে বিক্রি করা হয়।
বাংলাদেশ সোনালী আশেঁর দেশ। এক সময় প্রধান অর্থকরী ফসল ছিল পাট। এ উপজেলায় পাটের ফলন এ বছর ভালো। বর্তমানে বাজারমূল্য ভালো থাকায় সন্তোষ প্রকাশ করছেন স্থানীয় চাষিরা।
সরেজমিনে বিভিন্ন ইউনিয়নে দেখা যায়, পাট কাটা, জাগ দেয়া, পাটকাঠি থেকে পাট ছাড়ানো ও শুকানো নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন চাষিরা।
পাটের বীজ বপন থেকে শুরু করে আঁশ ছাড়িয়ে বিক্রির জন্য প্রস্তত করা পর্যন্ত যে খরচ হয় তাতে করে বর্তমান বাজারদরে পাট বিক্রি করলে লাভ হবে কৃষকদের।
উপজেলা কৃষি অফিস সুত্রে জানাযায়, এ বছর এ উপজেলায় এবছর ২৯০ হেক্টর জমিতে পাট চাষ করা হয়েছে। যা গত বছরের চেয়ে বেশী।কয়েকটি এলাকায় আগাম পাটের চাষ করায় ইতোমধ্যে বিক্রি শুরু হয়েছে। অনেকের পাট বিক্রির প্রস্ততি চলছে।
অনেক স্থানে পাটের আঁশ ছড়ানোতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে এ বছর পাটের বাজার মূল্য ভালো থাকায় কুষকরা খুশি । ইতোমধ্যে বাজারে নতুন পাট উঠতে শুরু করেছে। পাটের বাজারে মণ প্রতি ৩ হাজার ২ শ টাকা। তবে পাটের আশের কালার ভালো হলে দাম ৩ হাজার ৫শ টাকা পর্যন্ত বেচা-কেনা হচ্ছে।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী কালাম ও স্বপন বলেন, বর্তমানে মণ প্রতি পাট বিক্রি হচ্ছে ৩ হাজার ২শ’ টাকা। বাজার অনুযায়ী পাটের দাম আরও বাড়তে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
উপজেলার পাটচাষী আবু বক্কর ও লতিফ বলেন, পাট ঘরে তুলতে যে খরচ হয় তাতে করে বর্তমান দাম অনুযায়ী বিক্রি করলে লাভ হবে। তবে বাজারে দাম ভালো হওয়ায় আমরা খুশি।
উপজেলার মাগুড়া ইউনিয়নের দোলা পাড়া গ্রামের পাটচাষী রহমান বলেন, পাটের ফলন ভালো হয়েছে দামও ভালো।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা লোকমান আলম জানান, এ উপজেলার আবহাওয়া পাট চাষের জন্য যথেষ্ট উপযোগী। এ কারণে প্রতি বছরই এখানে পাটের ফলন ভালো হয়। চলতি বছরও ভালো ফলন হয়েছে। আমরা কৃষকদের সব ধরনের পরামর্শ দিয়ে থাকি। বাজারে পাটের দামও ভালো আশাকরি সামনে আরো পাটের দাম বাড়বে।