রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের মাস পবিত্র রমজান আমাদের দোরগোড়ায়। এই মাসের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ও ফজিলতপূর্ণ ইবাদত হলো খতম তারাবি। সিয়াম সাধনার পাশাপাশি কোরআন নাজিলের এই মাসে তারাবির নামাজে পবিত্র কোরআন খতম করা মুসলিম উম্মাহর এক দীর্ঘকালীন ঐতিহ্য ও মহান সুন্নাহ।
পবিত্র কোরআনে আল্লাহতায়ালা ইরশাদ করেন, “রমজান মাস সেই মাস, যে মাসে কোরআন নাজিল করা হয়েছে” (সুরা বাকারা: ১৮৫)। এই মাসে রাসুলুল্লাহ (সা.) হযরত জিবরাঈল (আ.)-কে পুরো কোরআন তিলাওয়াত করে শোনাতেন। সেই সুন্নাহর অনুসরণে তারাবির নামাজে পুরো কোরআন খতম করার বিধান মুমিনদের মাঝে অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে পালিত হয়ে আসছে।
খতম তারাবির বিশেষ ফজিলত
ধর্মীয় বিশ্লেষকদের মতে, খতম তারাবির মাধ্যমে একজন মুমিন বিশেষ কিছু সওয়াব অর্জন করেন:
সামাজিক ও মানসিক তাৎপর্য
খতম তারাবি কেবল ব্যক্তিগত ইবাদত নয়, এর সামাজিক গুরুত্বও অপরিসীম। দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে কোরআন শোনা মুমিনের ধৈর্য (সবর) ও সহনশীলতা বৃদ্ধি করে। একই পাড়া বা মহল্লার মানুষ যখন দীর্ঘ সময় এক কাতারে দাঁড়িয়ে ইবাদতে মশগুল থাকে, তখন তাদের মধ্যে ভ্রাতৃত্ব ও সামাজিক সংহতি তৈরি হয়। তিলাওয়াত শ্রবণের মাধ্যমে অন্তরে আল্লাহর ভয় বা ‘তাকওয়া’ সৃষ্টি হয়, যা মুমিনের চরিত্র গঠনে সহায়ক।
সতর্কতা ও আদব
খতম তারাবির পূর্ণ সওয়াব পেতে হলে কিছু বিষয়ের দিকে নজর রাখা জরুরি বলে মনে করেন ওলামায়ে কেরাম। হাফেজদের উচিত খুব দ্রুত তিলাওয়াত না করে স্পষ্ট ও শুদ্ধভাবে (তাজবিদসহ) পড়া, যাতে মুসল্লিরা আয়াতের মর্ম বুঝতে পারেন। পাশাপাশি এটি যেন কেবল আনুষ্ঠানিকতা বা লোকদেখানো (রিয়া) না হয়, বরং একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই আদায় করা আবশ্যক।
পরিশেষে, খতম তারাবি রমজানের এক নূরানি অনুষঙ্গ। এটি মুমিনের ঈমানকে সতেজ করে এবং কিয়ামতের ময়দানে কোরআনের সুপারিশ পাওয়ার পথ প্রশস্ত করে। তাই পবিত্র রমজানের বরকত পূর্ণরূপে হাসিল করতে খতম তারাবিতে শরিক হওয়া প্রতিটি মুসলমানের জন্য অত্যন্ত কল্যাণকর।