রাজবাড়ী দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুটে ভোটযাত্রার ঢল, ঘরমুখো মানুষের ভিড়
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায় ফিরতে কশুরু করেছে লাখো মানুষ। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার প্রবেশদ্বার হিসেবে পরিচিত রাজবাড়ী ও মানিকগঞ্জে অবস্থিত দৌলতদিয়া-পাটুরিয়া নৌরুট এখন ঘরমুখো মানুষের অন্যতম প্রধান যাত্রাপথে পরিণত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সবেলা ১২টার দিকে সরেজমিনে দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাট এলাকায় দেখা যায়, মোটরসাইকেল, বাস, মাইক্রোবাস ও প্রাইভেটকারসহ নানা ধরনের যানবাহনে করে আসা যাত্রীরা ফেরি থেকে নেমে নিজ নিজ গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওনা হচ্ছেন। একই সময় পাটুরিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে আসা প্রতিটি লঞ্চেই যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট-২০২৬ উপলক্ষে আগামী ১১ ও ১২ ফেব্রুয়ারি দেশব্যাপী নির্বাহী আদেশে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার। এর সঙ্গে শুক্রবার ও শনিবারের সাপ্তাহিক ছুটি মিলিয়ে টানা চার দিনের ছুটি পেয়েছেন সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মজীবী মানুষ। ফলে শহরে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক মানুষ ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে বাড়ির পথে ছুটছেন।
দৌলতদিয়া ৭ নম্বর ফেরিঘাটে ঢাকা থেকে আগত চুয়াডাঙ্গাগামী যাত্রী কুদ্দুস মিয়া বলেন, “আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি নিজের সংসদীয় আসনে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে বাড়িতে যাচ্ছি। দেশজুড়ে পরিবর্তনের হাওয়া বইছে। ন্যায় ও ইনসাফ বিবেচনায় সৎ ও যোগ্য প্রার্থীকে ভোট দেবো এবং পরিবারকেও ভোট দিতে উৎসাহিত করবো।
অন্যদিকে ঢাকা ও গাজীপুর থেকে আগত খুলনা পাইকগাছাগামী গার্মেন্টস কর্মী মো. মানিক শেখ বলেন, “নির্বাচন উপলক্ষে কয়েক দিনের ছুটি পেয়েছি। ভোট দেওয়া আমার নাগরিক অধিকার। তাই নিজের ভোট নিজে দিতে বাড়ির পথে রওনা হয়েছি।”
বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া ঘাটের সহকারী মহাব্যবস্থাপক মোহাম্মদ সালাহ উদ্দিন জানান, সোমবার রাত থেকেই ঘরমুখো মানুষের চাপ বাড়তে শুরু করেছে। তবে ঘাট এলাকায় এখনো কোনো যানজট নেই। বর্তমানে ছোট-বড় ১৪টি ফেরির মাধ্যমে যাত্রী ও যানবাহন পারাপার করা হচ্ছে এবং অধিকাংশ ফেরিই অল্প কিছু যানবাহন নিয়ে চলাচল করছে।