পূর্বপরিকল্পিত হামলার অভিযোগ; জড়িতদের গ্রেপ্তার ও ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি এলাকাবাসীর এলাকাবাসির সংবাদ সম্মেলন, নীলফামারীর সৈয়দপুর উপজেলার পাশ্ববর্তী এলাকার রংপুরের উপজেলার আলমপুর ইউনিয়নের দোয়ালীপাড়া এলাকায় সংঘটিত সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদে সোমবার (২০ এপ্রিল) চিকলী আহার হোটেল সংলগ্ন সংবাদ সম্মেলন করেছেন ভুক্তভোগী পরিবার ও স্থানীয় এলাকাবাসী। এ হামলাকারীদের গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ সময় তদন্ত তারা দ্রুত এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিতের দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য জানান, গত (১৫ এপ্রিল), সন্ধ্যা আনুমানিক ৬টা ২০ মিনিটে দোয়ালীপাড়া এলাকায় স্পিড ব্রেকার অপসারণকে কেন্দ্র করে স্থানীয়ভাবে একটি আলোচনা চলাকালে এ ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। মোটরসাইকেল বেপরোয়া চালানো নিয়ে মতবিরোধের জেরে পারভেজ ইসলাম (লালবাবু) ও রিয়ালসহ কয়েকজন ব্যক্তি উত্তেজিত হয়ে হুমকি দিয়ে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। অভিযোগ করা হয়, পরবর্তীতে তারা মোবাইল ফোনে যোগাযোগ করে তথাকথিত থাই ভিসা প্রতারণা
চক্রের সদস্য ও কিশোর গ্যাংয়ের সহযোগিতায় দেশীয় অস্ত্রসহ ২৫-৩০ জনের একটি সংঘবদ্ধ দল নিয়ে ঘটনাস্থলে ফিরে আসে। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তারা দোয়ালীপাড়া মোড়ে অবস্থান নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় ইটভাটা ম্যানেজার খায়রুল ইসলাম ঘটনাস্থলে পৌঁছালে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালানো হয়। হামলাকারীরা এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর জখম করে এবং তার কাছে থাকা তাকে প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। লোহার রড দিয়ে আঘাতে তার ডান কানের পর্দা ফেটে যায় এবং চোয়ালের হাড় ভেঙে যায় বলে জানানো হয়। বর্তমানে তিনি রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বক্তব্যে আরও উল্লেখ করা হয়, হামলাকারীরা পরবর্তীতে আইয়ুব হোসেন ও আবুল কালাম আজাদের বাড়িতে হামলার উদ্দেশ্যে প্রবেশের চেষ্টা চালায় এবং তাদের পরিবারকে হুমকি দেয়। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা দ্রুত পালিয়ে যায়। পরে এলাকাবাসীর সহায়তায় দুইজনকে আটক করে তারাগঞ্জ থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয় এবং ঘটনাস্থল
থেকে তিনটি মোটরসাইকেল জব্দ করা হয়। ঘটনার পর ভুক্তভোগী পরিবার থানায় অভিযোগ দায়ের করলে তা মামলায় রূপ নেয় এবং বর্তমানে মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। তবে অভিযুক্ত অন্যান্য আসামিরা এখনও পলাতক এবং তারা ভুক্তভোগী পরিবারকে বিভি-ন্নভাবে হুমকি দিয়ে যাচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়। সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা দাবি করেন, হামলাটি পূর্বপরিকল্পিত এবং হত্যার উদ্দেশ্যে পরিচালিত। তারা বলেন, এলাকায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এ অবস্থায় তারা প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত নিশ্চিত করা, জড়িত সকল আসামিকে দ্রুত গ্রেপ্তার করা, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান এবং ভুক্তভোগী পরিবারের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সংবাদ সম্মেলনে এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গসহ স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন। তারা দ্রুত বিচার নিশ্চিত করে এলাকায় আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার আহ্বান জানান।
মোঃ মাইনুল হক নীলফামারী-২১-০৪-২৬