সুস্থ থাকার জন্য কার্বোহাইড্রেট ও চর্বির পাশাপাশি প্রোটিন শরীরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপাদান। কোষ গঠন, পেশি শক্তিশালী রাখা এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়াতে প্রোটিনের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে অনেক সময় অজান্তেই শরীরে প্রোটিনের ঘাটতি তৈরি হয়, যা বিভিন্ন শারীরিক সমস্যার মাধ্যমে প্রকাশ পায়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রোটিনের অভাব হলে শরীরে কিছু সাধারণ লক্ষণ দেখা যায়। এর মধ্যে অন্যতম হলো পেশি দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কমে যাওয়া। পর্যাপ্ত প্রোটিন না থাকলে শরীর শক্তির জন্য পেশি ভাঙতে শুরু করে, ফলে দুর্বলতা দেখা দেয়।
এ ছাড়া চুল পড়া ও নখ ভেঙে যাওয়ার প্রবণতাও বাড়ে। কারণ চুল ও নখ মূলত কেরাটিন নামক প্রোটিন দিয়ে তৈরি। একই সঙ্গে বারবার ক্ষুধা লাগা প্রোটিনের ঘাটতির একটি সাধারণ লক্ষণ, কারণ প্রোটিন দীর্ঘ সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে।
ত্বকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। দীর্ঘদিন প্রোটিনের অভাবে ত্বক শুষ্ক হয়ে যায়, লালচে দাগ বা খসখসে ভাব দেখা দেয়। পাশাপাশি শরীরে কোনো ক্ষত হলে তা শুকাতে দেরি হয়, কারণ নতুন কোষ গঠনে প্রোটিন প্রয়োজন।
প্রোটিনের অভাবে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। ফলে ঘনঘন সর্দি-কাশি বা সংক্রমণে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে। এছাড়া মানসিক দিক থেকেও প্রভাব পড়ে—ক্লান্তি, মনোযোগের ঘাটতি ও খিটখিটে মেজাজের মতো সমস্যা দেখা দিতে পারে।
চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, এই ঘাটতি পূরণে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার অন্তর্ভুক্ত করা জরুরি। ডিম, মাছ, মাংস, ডাল, দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার, বাদাম এবং সয়াবিন প্রোটিনের ভালো উৎস।
বিশেষজ্ঞরা বলেন, একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রতি কেজি ওজনের জন্য অন্তত ০.৮ গ্রাম প্রোটিন গ্রহণ করা উচিত। সুষম খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখলে প্রোটিনের ঘাটতি সহজেই প্রতিরোধ করা সম্ভব।