ঈদের ছুটি কাটিয়ে যখন মানুষ কর্মস্থলে ফিরতে শুরু করেছে, ঠিক তখনই বগুড়াজুড়ে দেখা দিয়েছে তীব্র জ্বালানি সংকট। শহরের অধিকাংশ পেট্রোল পাম্পে এখন ‘তেল নেই’ সাইনবোর্ড ঝুলছে। জেলা শহর ও আশপাশের ৭২টি পাম্পের মধ্যে ৪০টিরও বেশি বর্তমানে কার্যত বন্ধ। যে কয়েকটি পাম্প খোলা আছে, সেগুলোতেও মজুত সীমিত থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত কয়েকদিন ধরেই জেলায় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি চলছিল। ঈদের আগে বাড়তি চাহিদার কারণে পাম্পগুলোর মজুত দ্রুত ফুরিয়ে যায়, যার প্রভাব দৃশ্যমান হয় ঈদের দিন থেকেই। সোমবার পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিলে একে একে বন্ধ হয়ে যায় অর্ধেকের বেশি পাম্প। পাম্প সংশ্লিষ্ট আব্বাস আলী জানান, চাহিদা অনুযায়ী তেল না পাওয়ায় মজুত শেষ হওয়া মাত্রই তারা বিক্রি বন্ধ করতে বাধ্য হয়েছেন। তেল সরবরাহ পেলে আবারও বিক্রি শুরু হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
জ্বালানি সংকটের সরাসরি প্রভাব পড়েছে জেলার পরিবহন খাতে। ব্যক্তিগত মোটরসাইকেল থেকে শুরু করে গণপরিবহন—সব ক্ষেত্রেই চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। বাইকচালক মেহেদি হাসান লেলিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “এভাবে দেশ চলতে পারে না। আসলেই তেলের অভাব নাকি কৃত্রিম সংকট তৈরি করা হয়েছে, সরকারের তা খতিয়ে দেখা উচিত।” আরেক চালক রুহুল আমিন লিটনের অভিযোগ, পাম্পে তেল না পাওয়া গেলেও খোলা বাজারে চড়া দামে তেল মিলছে, যা সিন্ডিকেটের কারসাজি বলেই মনে করছেন তিনি।
রাজশাহী পেট্রোলিয়াম ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন, বগুড়া জেলা শাখার সভাপতি মিজানুর রহমান রতন সংকটের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, জেলায় ৭২টি পাম্পের মধ্যে ৪০টিরও বেশি এখন বন্ধ। খোলা থাকা পাম্পগুলোতেও তেলের জন্য হাহাকার চলছে। সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, এই সংকট দ্রুত সমাধান না হলে কৃষি ও নিত্যপণ্যের সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিপর্যয় নেমে আসতে পারে। বগুড়ার জনজীবন স্বাভাবিক করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সাধারণ মানুষ।