মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে এখন নতুন যুদ্ধের দামামা। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি সামরিক হামলার হুমকির জবাবে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ ‘হরমুজ প্রণালি’ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। তেহরানের এই এক চালেই কার্যত কাঁপছে বিশ্ব অর্থনীতি।
সম্প্রতি নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যালে’ দেওয়া এক বার্তায় ইরানকে কড়া হুঁশিয়ারি দেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি স্পষ্ট জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত না করলে ইরানের বিদ্যুৎ অবকাঠামো লক্ষ্য করে ভয়াবহ বিমান হামলা চালাবে যুক্তরাষ্ট্র।
ট্রাম্পের এই হুমকির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা হুঙ্কার দিয়েছে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক কমান্ড ‘খাতাম আল-আম্বিয়া’। রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক জরুরি বিবৃতিতে তারা সাফ জানিয়ে দেয়, ইরানের কোনো বিদ্যুৎ স্থাপনায় হামলা হলে তার চড়া মূল্য দিতে হবে বিশ্বকে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলো পুনরায় নির্মিত না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি আর কখনোই উন্মুক্ত করা হবে না বলে সাফ জানিয়ে দিয়েছে তেহরান।
ইরান শুধু যুক্তরাষ্ট্রকেই নয়, বরং ইসরায়েলের জ্বালানি, যোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি অবকাঠামোকেও লক্ষ্যবস্তু হিসেবে চিহ্নিত করেছে। একই সঙ্গে যেসব প্রতিবেশী দেশ মার্কিন বাহিনীকে ঘাঁটি ব্যবহারের সুযোগ দিচ্ছে, তাদের গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোকেও ‘বৈধ লক্ষ্য’ হিসেবে ঘোষণা করে চূড়ান্ত সতর্কবার্তা দিয়েছে ইরান।
কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথটি অবরুদ্ধ হওয়ায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সংকটের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। বৈশ্বিক তেলের সরবরাহ প্রায় ২০ শতাংশ কমে যাওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলার ছাড়িয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে চরম মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কা করছেন অর্থনীতিবিদরা।