মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে উত্তেজনা এখন আর কেবল সামরিক লড়াইয়ে সীমাবদ্ধ নেই, তা সরাসরি বিশ্ব অর্থনীতির ‘লাইফলাইন’ বা জ্বালানি তেলের ওপর আঘাত হানার পর্যায়ে পৌঁছেছে। মঙ্গলবার (১০ মার্চ) ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) এক চরম হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলা অব্যাহত থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে বিশ্ববাজারে এক ফোঁটা তেলও রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না। তেহরানের এই হুমকির জবাবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও পাল্টা কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, এমনটি করলে ইরানকে ‘ভয়াবহ ও অপূরণীয়’ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে।
বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর পক্ষ থেকে সাফ জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, হামলা না থামলে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালিসহ পুরো অঞ্চল থেকে ‘এক লিটার তেলও’ বিশ্বের কোথাও যেতে দেওয়া হবে না। ইরানের এই ঘোষণা বিশ্বজুড়ে তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা ও উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।
তেহরানের এই অর্থনৈতিক যুদ্ধের হুমকির জবাবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প অত্যন্ত কঠোর ভাষা ব্যবহার করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, জ্বালানি সরবরাহে বাধা দিলে ইরানকে আগের চেয়ে অনেক গুণ শক্তিশালী হামলার মুখে পড়তে হবে। ট্রাম্পের দাবি, মার্কিন বাহিনী ইতিমধ্যে ইরানের সামরিক সক্ষমতার ব্যাপক ক্ষতি সাধন করেছে। তিনি আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন যে, তার নির্ধারিত চার সপ্তাহের সময়সীমার অনেক আগেই এই সংঘাতের অবসান ঘটবে। তবে এই যুদ্ধে ‘বিজয়’ বলতে তিনি ঠিক কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট যখন যুদ্ধ ‘শিগগির’ শেষ করার বার্তা দিচ্ছেন, তখন ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত এক বিবৃতিতে আইআরজিসি পাল্টা চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেছে, “তারাই যুদ্ধের সমাপ্তি নির্ধারণ করবে।” এই অনড় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যকে এক চরম অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
ইতিমধ্যে যুদ্ধের প্রভাবে ওই নৌপথে পণ্যবাহী জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। একদিকে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করে বিশ্ব অর্থনীতিকে অচল করার হুমকি, অন্যদিকে ট্রাম্পের সামরিক শক্তি প্রয়োগ করে ইরানকে গুঁড়িয়ে দেওয়ার সংকল্প—এই দুই শক্তির মুখোমুখি অবস্থানে গোটা বিশ্ব এখন এক ভয়াবহ সংকটের প্রহর গুনছে।