কোরীয় উপদ্বীপে যুদ্ধের উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে দিয়ে এবার একযোগে ১০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে উত্তর কোরিয়া। শনিবার (১৪ মার্চ) স্থানীয় সময় দুপুর ১টা ২০ মিনিটের দিকে দেশটির পূর্ব সাগরের দিকে এই শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্রগুলো ছোড়া হয়। দক্ষিণ কোরিয়ার জয়েন্ট চিফস অব স্টাফ (জেসিএস) এই চাঞ্চল্যকর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
জেসিএস এক বিবৃতিতে জানায়, উত্তর কোরিয়ার সুনান এলাকা থেকে ক্ষেপণাস্ত্রগুলো উৎক্ষেপণ করা হয়েছে। ঘটনার পরপরই দক্ষিণ কোরিয়া তাদের নজরদারি ও সামরিক সতর্কতা জোরদার করেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিউল বর্তমানে ওয়াশিংটন ও টোকিও’র সাথে নিবিড়ভাবে তথ্য আদান-প্রদান করছে এবং যেকোনো পরিস্থিতির জন্য প্রস্তুতিমূলক অবস্থান বজায় রেখেছে।
জাপানের সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রগুলো সম্ভবত ইতিমধ্যেই সাগরে পতিত হয়েছে। তবে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জাপানেও উচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যৌথ সামরিক মহড়া ‘ফ্রিডম শিল্ড’ (এফএস)-এর প্রতিক্রিয়ায় এই শক্তি প্রদর্শন করেছে কিম জং উন প্রশাসন। গত ৯ মার্চ শুরু হওয়া এই মহড়া চলবে ১৯ মার্চ পর্যন্ত। পিয়ংইয়ং শুরু থেকেই এই মহড়াকে তাদের সার্বভৌমত্বের ওপর ‘আক্রমণাত্মক’ হুমকি হিসেবে আখ্যা দিয়ে আসছে।
উত্তর কোরিয়ার প্রভাবশালী নেত্রী কিম ইয়ো-জং এক হুঁশিয়ারি বার্তায় বলেন, “শত্রুপক্ষ যদি আমাদের নিরাপত্তার সীমানার কাছে কোনো সামরিক উসকানি চালায়, তবে তার পরিণাম হবে ভয়াবহ।” উল্লেখ্য, উত্তর কোরিয়া এমন এক সময় এই পরীক্ষা চালাল যখন এশীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা দপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সফর ও তৎপরতা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।