মধ্যপ্রাচ্যের রণক্ষেত্রে চরম উত্তেজনা ছড়িয়ে এবার ইসরায়েলে ‘বৃষ্টির মতো’ রকেট ও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান এবং লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ইরান ইন্টারন্যাশনাল ও টাইমস অব ইসরায়েলের প্রতিবেদনে এই ভয়াবহ হামলার তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। কয়েক ঘণ্টা ধরে চলা এই বিধ্বংসী হামলায় উত্তর ও মধ্য ইসরায়েলের লক্ষাধিক বাসিন্দাকে জরুরি আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিতে হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার সন্ধ্যা থেকে উত্তর ইসরায়েল লক্ষ্য করে প্রায় ২০০টি রকেট ও ড্রোন নিক্ষেপ করে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) জানিয়েছে, সীমান্ত অতিক্রম করা বেশ কিছু রকেট সরাসরি বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হেনেছে। এতে বিয়িনা শহরের একটি বাড়িসহ বেশ কিছু স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইসরায়েলি জরুরি সেবা সংস্থা ‘মাগেন ডেভিড আদম’ জানিয়েছে, বিস্ফোরণের ধ্বংসাবশেষে অন্তত দুইজন গুরুতর আহত হয়েছেন এবং চারজন তীব্র আতঙ্কজনিত কারণে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
হিজবুল্লাহর হামলার সমান্তরালে ইরান সরাসরি ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ড লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই আক্রমণকে হিজবুল্লাহর সঙ্গে একটি ‘সমন্বিত ও যৌথ অভিযান’ হিসেবে দাবি করেছে। আইডিএফ দাবি করেছে যে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করতে সক্ষম হয়েছে, তবে কিছু কিছু জায়গায় ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, এবারের হামলার মূল লক্ষ্য ছিল তেল আবিবের উপকণ্ঠে অবস্থিত গ্লিলট সামরিক ঘাঁটি। উল্লেখ্য, এই এলাকায় ইসরায়েলের সামরিক গোয়েন্দা ইউনিটের (ইউনিট ৮২০০) সদরদপ্তর অবস্থিত। হামলার সময় গ্যালিলি অঞ্চল ও হাইফা শহরসহ লেবানন সীমান্ত থেকে প্রায় ৫০ কিলোমিটার এলাকা জুড়ে বারবার সাইরেন বেজে ওঠে এবং সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করা হয়।
বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ইরান ও হিজবুল্লাহর এই সমন্বিত হামলা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে এক নতুন ও ভয়াবহ মোড়ে নিয়ে দাঁড় করিয়েছে।