দেশের ক্রিকেট অঙ্গনে এখন বইছে উত্তপ্ত হাওয়া। জাতীয় নির্বাচনের পরপরই গত ১৬ ফেব্রুয়ারি বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল হুট করে অস্ট্রেলিয়া সফরে যাওয়ায় শুরু হয় নানা জল্পনা। দীর্ঘ নীরবতায় অনেকেই যখন তার ফেরা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছিলেন, ঠিক তখনই বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদ জানালেন, সব ঠিক থাকলে ঈদের পরেই দেশে ফিরবেন বোর্ড সভাপতি।
আমিনুল ইসলাম বুলবুল বর্তমানে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করলেও দেশের ক্রিকেট মাঠ কিন্তু মোটেও শান্ত নেই। দ্বিতীয় মেয়াদে তার নেতৃত্বাধীন বোর্ডের বৈধতা নিয়ে ইতোমধ্যেই প্রশ্ন তুলেছেন সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল খান ও সাবেক পরিচালক মাসুদুজ্জামানসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব।
মাঠের বাইরের এই বিতর্ক এখন চরম আকার ধারণ করেছে ৪৪টি ক্লাবের বিদ্রোহের মাধ্যমে। বোর্ডের বর্তমান নীতির প্রতিবাদে তারা সব ধরনের ক্রিকেট বর্জনের ঘোষণা দিয়েছে। এমনকি ফরচুন বরিশালের মালিক মিজানুর রহমান সরাসরি বর্তমান বোর্ডের বৈধতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে এবারের বিপিএল থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছেন। এর সঙ্গে ২০২৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে দলের ভরাডুবির দায়ও এখন বর্তাচ্ছে বর্তমান পরিচালনা পর্ষদের ওপর।
অন্যদিকে, রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও চাপের মুখে রয়েছে বিসিবি। ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক দায়িত্ব গ্রহণের আগে থেকেই বর্তমান বোর্ডের বৈধতা নিয়ে সোচ্চার ছিলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, বিদ্রোহী ক্লাবগুলোর মূল দাবি—নতুন সরকারের অধীনে বিসিবির নতুন নির্বাচন।
এরই মধ্যে চারদিকে গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছিল যে, আমিনুল ইসলাম বুলবুল আর ফিরবেন না এবং অস্ট্রেলিয়া থেকেই পদত্যাগপত্র পাঠাবেন। তবে বিসিবি পরিচালক আসিফ আকবর এই সম্ভাবনা উড়িয়ে দিয়ে একে নিছক ‘পারিবারিক সফর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। একই সুরে বিসিবির সহ-সভাপতি ফারুক আহমেদও জানান, পদত্যাগ সংক্রান্ত কোনো তথ্য তাদের জানা নেই এবং ঈদের পরেই সভাপতির ফেরার কথা রয়েছে।
এখন সবার নজর ঈদের পরবর্তী সময়ের দিকে—সভাপতি ফিরে এসে এই বিশাল অস্থিরতা কীভাবে সামাল দেন, নাকি দেশের ক্রিকেটে নতুন কোনো পরিবর্তনের হাওয়া লাগে, সেটাই এখন দেখার বিষয়।