মানবিকতার পথে রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশন, ৭০০ ব্যাগ রক্তদান ও ১০০০ ডোনারের মাইলফলক স্পর্শ
মানবতা, একতা ও পরিবর্তনের অঙ্গীকার” এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে আর্তমানবতার সেবায় এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশন (রাইয়ো)’।
নওগাঁ জেলার রাণীনগর ও আত্রাই উপজেলাজুড়ে বিস্তৃত এই সংগঠনটি যাত্রা শুরুর পর থেকে অত্যন্ত অল্প সময়ে মুমূর্ষু রোগীদের জন্য ৭০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করে দেওয়ার এক গৌরবোজ্জ্বল মাইলফলক স্পর্শ করেছে। দুই উপজেলার সাধারণ মানুষের জরুরি প্রয়োজনে রক্তের যোগান নিশ্চিত করতে সংগঠনটির স্বেচ্ছাসেবীরা এখন নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
একইসঙ্গে সংগঠনের নিজস্ব ওয়েবসাইট (www.raninagar.org)-এ নিবন্ধিত স্বেচ্ছাসেবী রক্তদাতার সংখ্যা ১০০০ জন ছাড়িয়ে গেছে, যা স্থানীয় পর্যায়ে রক্তদান আন্দোলনে এক নতুন গতির সঞ্চার করেছে।
সংগঠনটির তথ্যমতে, ২০২৪ সালের ১২ই আগস্ট ডোমেইন নিবন্ধনের মাধ্যমে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে যাত্রা শুরু হলেও, ২০২৫ সালের ২৫শে জুলাই থেকে এটি আনুষ্ঠানিকভাবে মাঠপর্যায়ে কার্যক্রম শুরু করে। গত ২৬৭ দিন ধরে সংগঠনের একঝাঁক তরুণ স্বেচ্ছাসেবী দিন-রাত নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছেন। উপজেলার প্রত্যন্ত অঞ্চলের রোগীদের রক্তের প্রয়োজনে এই ডিজিটাল ডেটাবেজটি এখন সাধারণ মানুষের আশার আলো হয়ে দাঁড়িয়েছে।
রাণীনগর ইয়ুথ অর্গানাইজেশনের প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি আব্দুল্লাহ আল মাহীদ বলেন, “আমরা চেয়েছিলাম প্রযুক্তির মাধ্যমে রক্তদান প্রক্রিয়াকে সহজ করতে যেন কাউকে রক্তের জন্য হাহাকার করতে না হয়। ৭০০ ব্যাগ রক্তদান এবং ১০০০ ডোনারের এই অর্জন আমাদের দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।”
সহ-প্রতিষ্ঠাতা ও সাধারণ সম্পাদক মোঃ মুন্না আহমেদ জানান, শুধু রক্তদান নয়, বরং সামাজিক সচেতনতা ও ইতিবাচক পরিবর্তনের লক্ষ্য নিয়েই তারা কাজ করে যাচ্ছেন। তিনি এই মানবিক যাত্রায় সমাজের সকল স্তরের মানুষকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, আগামীতে তাদের এই সেবার পরিধি আরও বিস্তৃত করা হবে। তাদের ভাষায় “আসুন, সবাই মিলে এই মানবিক কাজে অংশ নিই। কারণ আপনার একটি রক্তদান, কারও জীবনে আনতে পারে নতুন আশা!”
রাণীনগরের তরুণদের এই উদ্যোগ এখন স্থানীয় গণ্ডি পেরিয়ে সামাজিক সেবার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে স্বীকৃত হচ্ছে।