ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বগুড়া-৫ (শেরপুর-ধুনট) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী গোলাম মোহাম্মদ সিরাজ (জিএম সিরাজ) বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে তিনি ২ লাখ ৪৮ হাজার ৮৪১ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়লাভ করেন, যা এ আসনের ইতিহাসে অন্যতম বড় ব্যবধান হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামি-এর প্রার্থী দবিবুর রহমান দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে পেয়েছেন ১ লাখ ৪৩ হাজার ৩২৯ ভোট। এ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৫ লাখ ৭২ হাজার ৩৪০ জন—এর মধ্যে পুরুষ ২ লাখ ৮১ হাজার ২৮৭, নারী ২ লাখ ৯১ হাজার ৪৭ এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ৬ জন। ভোটার উপস্থিতি ছিল উল্লেখযোগ্য; প্রায় ৪ লাখ ৬৪ হাজার ভোট প্রয়োগ হয়েছে বলে জানা গেছে। চূড়ান্ত ফলে পোস্টাল ব্যালটের ভোট এখনও অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
এই বিজয় জিএম সিরাজের জন্য পঞ্চমবারের মতো এ আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার ঐতিহাসিক মাইলফলক। তিনি ১৯৯১ থেকে ২০০৬ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার এ আসনের এমপি ছিলেন এবং দীর্ঘদিন জেলা আহ্বায়কসহ দলের কেন্দ্রীয় উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য হিসেবে সক্রিয় রয়েছেন। শেরপুর ও ধুনটের কৃষিনির্ভর অঞ্চলে যমুনা-করতোয়া নদীর ভাঙন প্রতিরোধ, যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, শিক্ষা বিস্তার এবং বন্যা-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধানে তার পূর্ববর্তী অবদানকে স্থানীয়রা গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন।
নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি জনগণের অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠা, শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা এবং স্থানীয় উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তরুণ ভোটারদের সক্রিয় সমর্থনও তার বিজয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে।
এদিকে বগুড়া জেলার সাতটি সংসদীয় আসনেই বিএনপির প্রার্থীরা বেসরকারিভাবে বিজয়ী হয়েছেন বলে দলীয় সূত্র দাবি করেছে, যা দলটির জন্য নিরঙ্কুশ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে। বিশেষ করে বগুড়া-৬ আসনে বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান ২ লাখ ১৬ হাজার ২৮৪ ভোট পেয়ে বড় ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।