• বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ০৩:২৩ পূর্বাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
‎ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে নিহতের ঘটনায় হত্যা মামলা কৃষক পরিবারের মেয়েকে অপহরণ, মেয়ের ছবি হাতে অঝোরে কাঁদছেন বাবা-মা রায়গঞ্জে কোরবানীর জন্য প্রস্তুত ৭১ হাজার পশু গাইবান্ধায় ফায়ার সপ্তাহ- ২০২৬ উদ্বোধন ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স সপ্তাহ উপলক্ষে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত ইউপি চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী সহ ২০ জনের কুড়িগ্রাম এনসিপিতে যোগদান ‎বগুড়ার শেরপুরে ট্রান্সফরমার চুরি করতে গিয়ে গণপিটুনিতে এক যুবকের মৃত্যু জয়পুরহাটে দাখিল পরীক্ষার নীতিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগ গাইবান্ধা জেলায় পুলিশ কনস্টেবল পদে নিয়োগ পেয়েছেন ৪৫ প্রার্থী আব্দুল আলিম হজ্ব কাফেলার হজ্ব যাত্রীদের নিয়ে মক্কায় গমন

৩ বছরের মেয়েকে হত্যা করে ট্রাংকে লাশ লুকিয়ে রাখলেন মা, নেপথ্যে কী?

অনলাইন ডেস্ক / ৯১ Time View
Update : রবিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

97

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গোবরা নিলারমাঠ এলাকা থেকে ফারিয়া নামে ৩ বছরের শিশুর গলিত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিন পর শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) পুলিশ ট্রাংকে লুকিয়ে রাখা অবস্থায় শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে আটক করা হয়েছে। ফারিয়াকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ ট্রাংকে লুকিয়ে রেখে প্রেমিকের সঙ্গে পালিয়ে গিয়েছিলেন সেতু বেগম।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, প্রায় ৪ বছর আগে গোবরা নিলারমাঠ এলাকার রুবেল শেখের সঙ্গে সেতু বেগমের বিয়ে হয়। রুবেল বর্তমানে সৌদি প্রবাসী। স্বামী প্রবাসে থাকার সুযোগে প্রায় ৬ মাস আগে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম টিকটকে ফরিদপুরের মিরাজ মোল্লার সঙ্গে পরিচয় হয় সেতুর। যা পরবর্তীতে পরকীয়া প্রেমে রূপ নেয়।

প্রেমের পথের কাঁটা সরাতে গত ২২ জানুয়ারি সন্ধ্যায় মা সেতু বেগম নিজের সন্তান ফারিয়াকে গলায় ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করেন। এরপর মরদেহটি কৌশলে বাসার একটি ট্রাংকের ভেতর লুকিয়ে রেখে পরকীয়া প্রেমিকের হাত ধরে পালিয়ে যান।

প্রেমের টানে পালালেও শেষ রক্ষা হয়নি সেতুর। যার জন্য নিজের সন্তানকে বিসর্জন দিয়েছিলেন, সেই প্রেমিক মিরাজ তাকে ফরিদপুরে তার মামার বাড়িতে রেখে সটকে পড়েন। পরে পরিবারের সদস্যদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে সেতু স্বীকার করেন যে, তিনি ফারিয়াকে হত্যা করে ট্রাংকে লুকিয়ে রেখেছেন।

শনিবার সেতুর মা ও মামা তাকে ফরিদপুর থেকে নিয়ে এসে গোপালগঞ্জ সদর থানায় সোপর্দ করেন। পরে পুলিশ সেতুর দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে বাড়িতে গিয়ে ট্রাংক থেকে ফারিয়ার পচে-গলে যাওয়া মরদেহ উদ্ধার করে।

বিষয়টি নিশ্চিত করে গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) সাখাওয়াত হোসেন সেন্টু বলেন, ‘আমরা শিশুটির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে পাঠিয়েছি। অভিযুক্ত মা সেতু বেগমকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পরকীয়া প্রেমিক মিরাজ মোল্লাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এ ঘটনায় কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে।’

এদিকে, একমাত্র নাতনিকে হারিয়ে পাগলপ্রায় ফারিয়ার দাদা ও স্বজনরা। পাড়া-প্রতিবেশীদের মধ্যেও বিরাজ করছে চরম ক্ষোভ ও শোক। এলাকাবাসী ঘাতক মায়ের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা