• মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২৯ অপরাহ্ন
সর্বশেষ সংবাদ
গোবিন্দগঞ্জে এক গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ দুপচাঁচিয়ায় নতুন কুড়ি স্পোর্টস উপলক্ষে প্রস্তুতিমূলক সভা গাইবান্ধায় হামের টিকাদান কর্মসুচী শুরু হয়েছে থাই ভিসা প্রতারক চক্রের সংঘবদ্ধ হামলার প্রতিবাদে এলাকাবাসির সংবাদ সম্মেলন। রামেকে মায়ের মৃত্যুর প্রতিবাদ করা সেনাসদস্যকে মারধর করে কর্মবিরতিতে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জে ১৫ কেজি গাঁজাসহ আটক ১ পলাশবাড়ীতে ধর্ষককে গ্রেফতারের দাবিতে শিশু শিক্ষার্থীদের মানববন্ধন প্রধানমন্ত্রীর সম্মাননা পেলেন শেরপুরের ডা. সাজিদ হাসান গাইবান্ধায় আজ থেকে শুরু হয়েছে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা, আঃরাজ্জাক সরকার পলাশবাড়ীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যাবস্থা ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্য দিয়ে এস এস সি,,এসএসসি (ভোক:)দাখিল ও সমমানের পরীক্ষা অনুষ্ঠিত

বিদ্যালয়ে না এসেও দুই শিক্ষকের হাজিরা খাতায় হচ্ছে নিয়মিত স্বাক্ষর

সামসুজ্জামান সুমন কিশোরগঞ্জ(নীলফামারী)প্রতিনিধি / ৬৮ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

47

 

কয়েক মাস ধরে স্কুলে আসেন না সহকারি শিক্ষিকা মাহবুবা নাসরিন। হাজিরা খাতায় অনুপস্থিত থাকার কথার থাকলেও সেটি দেখা যায়নি। অনুপস্থিতির যায়গায় স্বাক্ষর করে উপস্থিত দেখানো হচ্ছে। সেই স্বাক্ষর নিয়মিত করছেন
প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগম,সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া শাহ, ও শিক্ষিকা নাহিদা আক্তার।

প্রধান শিক্ষক মোরশেদা বেগমও স্কুলে না আসলে হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর দিতেন সহকারী শিক্ষক জাকারিয়া শাহ ও শিক্ষিকা নাহিদা আক্তার। বলছি নীলফামারীর কিশোরগঞ্জ উপজেলার সদর ইউনিয়নের পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কথা।

বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত থাকার কারণে স্কুলের শ্রেণিসহ অন্যান্য কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। কিন্তু তারা বিদ্যালয়ে না গিয়েও কিভাবে নিয়মিত স্বাক্ষর হচ্ছে এবং বেতন বিল উত্তোলন করছেন- এ নিয়ে অভিভাবকসহ বিভিন্ন শ্রেণির মানুষের মাঝে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ- সংশ্লিষ্ট এটিও কে ম্যানেজ করে তারা অনিয়ম করেও এসব সুযোগ সুবিধা গ্রহণ করছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উপজেলার পুষনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ১৯৯৫ সালের ০৫ জুন প্রধান শিক্ষকের পদে যোগদান করেন মোর্শেদা বেগম। যোগদানের পর থেকেই সরকারি নীতিমালা লঙ্ঘন করে তার ইচ্ছা মতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থেকে ব্যক্তিগত কাজে ব্যস্ত থাকেন। শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান করান না। বিদ্যালয়ের নামে আসা বরাদ্দ তিনি তার ইচ্ছা মতো খরচ করেন । বিদ্যালয়ে না গিয়েও সংশ্লিষ্টদের যোগসাজসে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর হচ্ছে। এ ছাড়াও বেতন-ভাতাসহ সকল ধরনের সুযোগ-সুবিধা নিচ্ছেন।

এদিকে ঈদ হওয়ার বেশ কয়েক মাস হলো। সহকারী শিক্ষিকা মাহবুবা নাসরিন শুধু ৪ থেকে ৫ দিন স্কুলে এসেছিলেন। তাছাড়া বাকি দিন গুলো অনুপস্থিত। অনুপস্থিত থাকলেও হাজিরা খাতায় তার স্বাক্ষর হয়ে যায়।

জানা গেছে, বিদ্যালয়টি ১৮৯৬ সালে স্থাপিত হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়ের মোট ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা ১১০ জন । খাতায় কলমে ১১০ জন থাকলেও বাস্তবে তা দেখা যায়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক শিক্ষক বলেন প্রধান শিক্ষক সময় মতো স্কুলে আসেন না। সহকারী শিক্ষিকা মাহবুবা নাসরিন তো স্কুল আসেনই না, কয়েক মাস ধরে। মাহবুবা নাসরিন ম্যাডাম স্কুলে না আসলে হেড ম্যাডাম ও আর এক শিক্ষক অথবা শিক্ষিকা তার হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর করেন। হেড ম্যাডাম না আসলে ওরাই স্বাক্ষর দেন। এভাবেই চলছে প্রতিষ্ঠান।

কয়েকজন শিক্ষার্থী বলেন, আমাদের হেড ম্যাডাম সময় মতো ও প্রতিদিন স্কুলে আসেন না। আমরা জিজ্ঞাসা করলে বলেন ছুটিতে ছিলাম। আর মাহবুবা নাসরিন আপা তো অনেক দিন ধরে স্কুলে আসেন না। শুধু ৪ ও ৫দিন স্কুলে আসছিলেন।

কয়েকজন অভিভাবক বলেন, এই স্কুলে তো লেখা পড়ায় নাই। শিক্ষকরা স্কুলে না আসলে কেমন করে লেখা পড়া হবে। কতদিন শিক্ষা অফিসারকে বলা হয়েছে হেড ম্যাডাম ও একজন সহকারী শিক্ষিকা নিয়মিত স্কুলে আসেন না। কই তারা কোন ব্যবস্থা নেয় নি।

এবিষয়ে প্রধান শিক্ষকের সাথে যোগাযোগ করতে না পারায় বক্তব্য নেয়া সম্ভব হয়নি।

এটিও ফারুক বলেন বিদ্যালয়ে না এসেও নিয়মিত স্বাক্ষর হচ্ছে- বিষয়টি সম্পর্কে আমি জেনেছি। সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :
More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা