ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত এখন এক চরম উত্তেজনাকর মুহূর্তে পৌঁছেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর নতুন করে ‘অত্যন্ত কঠোর’ হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। শনিবার (৭ মার্চ) নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ এক পোস্টে ট্রাম্প স্পষ্ট করে জানান, আজই ইরানকে বড় ধরনের আঘাত করা হতে পারে এবং প্রয়োজনে হামলার লক্ষ্যবস্তু আরও বাড়ানো হবে।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “আজ ইরানকে অত্যন্ত কঠোরভাবে আঘাত করা হবে! ইরানের হীন আচরণের কারণে এমন কিছু এলাকা ও জন গোষ্ঠীকে সম্পূর্ণ ধ্বংসের বিষয়টি গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হচ্ছে, যেগুলো আগে আমাদের লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ছিল না।” ট্রাম্প ইরানকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘লুজার’ বা পরাজিত শক্তি হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তারা তাদের প্রতিবেশীদের কাছে নতি স্বীকার করেছে।
এদিকে, মার্কিন প্রেসিডেন্টের ‘নিঃশর্ত আত্মসমর্পণের’ দাবিকে সরাসরি নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান। তিনি সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান কখনোই আত্মসমর্পণ করবে না। তবে আঞ্চলিক উত্তেজনা কমাতে এক নজিরবিহীন পদক্ষেপ নিয়েছেন তিনি। শুক্রবার (৬ মার্চ) এক ভাষণে পেজেশকিয়ান গত কয়েক দিনের হামলার জন্য প্রতিবেশী দেশগুলোর কাছে ব্যক্তিগতভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করেন।
তিনি বলেন, “প্রতিবেশী দেশগুলোর দিক থেকে কোনো হামলা না হলে ইরান আর তাদের ওপর আক্রমণ করবে না। আমাদের সশস্ত্র বাহিনীকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে যেন তারা অত্যন্ত সতর্কতার সাথে লক্ষ্যবস্তু নির্ধারণ করে।” পেজেশকিয়ান আরও জানান, ইরানের অন্তর্বর্তীকালীন নেতৃত্ব পরিষদ সিদ্ধান্ত নিয়েছে যে, কোনো প্রতিবেশী দেশ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি হামলা না হলে সেসব দেশের ওপর আর কোনো ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হবে না।
বার্তা সংস্থা এএফপি’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় এখন যুদ্ধের ঘনঘটা। একদিকে ট্রাম্পের কঠোর সামরিক পদক্ষেপের হুমকি, অন্যদিকে ইরানের পক্ষ থেকে প্রতিবেশী দেশগুলোর সাথে উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা—সব মিলিয়ে বিশ্ব রাজনীতিতে এক অস্থির পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্প যদি সত্যিই আজ বড় ধরনের কোনো হামলা পরিচালনা করেন, তবে পুরো মধ্যপ্রাচ্য এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কবলে পড়তে পারে।