মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে কেন্দ্র করে চলমান সংঘাত চতুর্থ সপ্তাহে গড়িয়েছে। এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোতে বড় ধরনের হামলার পরিকল্পনা আপাতত স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ট্রাম্পের এই সিদ্ধান্তে অঞ্চলটিতে যুদ্ধ থিতিয়ে আসার আশা জাগলেও, পর্দার আড়ালে সৌদি আরবের যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান (এমবিএস) উল্টো অবস্থান নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মার্কিন প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যম দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস-এর এক বিশেষ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার জন্য জোরালো অনুরোধ জানিয়েছেন। সাম্প্রতিক এক আলোচনায় তিনি যুক্তি দিয়েছেন যে, চলমান মার্কিন-ইসরায়েলি সামরিক অভিযান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে নতুনভাবে সাজানোর একটি ‘ঐতিহাসিক সুযোগ’। যুবরাজ মনে করেন, ইরান উপসাগরীয় দেশগুলোর জন্য একটি স্থায়ী হুমকি এবং এই হুমকি চিরতরে নির্মূল করার একমাত্র পথ হলো তেহরানের বর্তমান সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করা।
এমনকি তিনি ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো ধ্বংসের পাশাপাশি প্রয়োজনে স্থল অভিযান চালানোর সম্ভাবনা নিয়েও ট্রাম্পের সঙ্গে কথা বলেছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রকাশ্যে সৌদি আরব সরকারের অবস্থান কিছুটা ভিন্ন। এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে রিয়াদ জানিয়েছে, তারা বরাবরই শান্তিপূর্ণ সমাধানের পক্ষে। তবে ইরানের ধারাবাহিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা থেকে নিজেদের বেসামরিক অবকাঠামো রক্ষা করা এখন তাদের প্রধান উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিমান হামলায় ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির মৃত্যুর পর সংঘাত ভয়াবহ রূপ নেয়। এর জবাবে ইরান সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও কুয়েতের বিভিন্ন তেলের খনি ও বিমানবন্দরে কয়েকশ ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, যা বিশ্ব জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি করেছে। ট্রাম্প তার ‘ট্রুথ সোশ্যাল’ পোস্টে একটি ‘সম্পূর্ণ ও সার্বিক সমাধানের’ কথা বললেও, সৌদি যুবরাজের কঠোর অবস্থানের ফলে মধ্যপ্রাচ্যের ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে দাঁড়িয়ে।