ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের অশুভ তৎপরতা বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত পাল্টা সামরিক অভিযান অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ফিদান হাকানের সঙ্গে এক ফোনালাপে এই কঠোর অবস্থানের কথা জানান। আরাগচি স্পষ্টভাবে বলেন, যেসব ঘাঁটি থেকে ইরানের ওপর হামলার পরিকল্পনা ও পরিচালনা করা হচ্ছে, কেবল সেগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করছে তাদের সশস্ত্র বাহিনী এবং এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে পূর্ণ সংগতিপূর্ণ।
এদিকে, ইরান থেকে ছোড়া একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র তুরস্কের আকাশসীমার ওপর দিয়ে উড়ে যাওয়ার ঘটনায় আঙ্কারায় নিযুক্ত ইরানি রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি পূর্ব ভূমধ্যসাগরের ওপর ন্যাটো বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে ধ্বংস করা হয়েছে এবং এর ধ্বংসাবশেষ উপকূলীয় দরতিয়ল এলাকায় পড়েছে। এই ঘটনার পরপরই দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মধ্যে জরুরি ফোনালাপ অনুষ্ঠিত হয়।
পারস্য উপসাগরেও সংঘাতের উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে। যুক্তরাজ্যের মেরিটাইম ট্রেড অপারেশনস (ইউকেএমটিও) জানিয়েছে, কুয়েতের মুবারক আল-কাবীর উপকূলে নোঙর করে থাকা একটি তেলের ট্যাঙ্কারে বিকট বিস্ফোরণ ঘটেছে। এতে জাহাজটির কার্গো ট্যাঙ্ক থেকে সাগরে তেল ছড়িয়ে পড়ায় পরিবেশগত বিপর্যয়ের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। বিস্ফোরণের পর একটি ছোট নৌকাকে দ্রুত এলাকা ছেড়ে যেতে দেখা গেছে বলে জাহাজের মাস্টার জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর তথ্যমতে, বুধবার ও বৃহস্পতিবার দফায় দফায় নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে ইরান। ইসরায়েল জুড়ে সাইরেন বাজিয়ে নাগরিকদের নিরাপদ আশ্রয়ে থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এবং হামলা প্রতিহতে ‘আয়রন ডোম’ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় রাখা হয়েছে। একইভাবে সৌদি আরবও বৃহস্পতিবার আল-খারজ শহরের বাইরে তিনটি ইরানি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত ও ধ্বংস করার দাবি করেছে। সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের আকাশ এখন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে।