বিএনপির চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া ইন্তেকাল করেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মঙ্গলবার (৩০ ডিসেম্বর) সকাল ৬টার দিকে তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। বিএনপির মিডিয়া সেল সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তার মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে নানা জটিলতায় ভুগছিলেন খালেদা জিয়া। ফুসফুসের সংক্রমণ থেকে শ্বাসকষ্ট নিয়ে তাকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরবর্তীতে নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হন তিনি। পাশাপাশি কিডনি, লিভার, আর্থ্রাইটিস ও ডায়াবেটিসসহ একাধিক পুরোনো রোগে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। অবস্থার অবনতি হলে তাকে হাসপাতালের নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) নেওয়া হয়।
তার অসুস্থতার সময়ে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন এবং অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসসহ দেশবাসীর কাছে তার রোগমুক্তির জন্য দোয়া কামনা করেন। দল-মত নির্বিশেষে রাজনৈতিক ও সামাজিক নেতারাও তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং সুস্থতার জন্য দোয়া করেন।
খালেদা জিয়া বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং পাকিস্তানের বেনজির ভুট্টোর পর মুসলিম বিশ্বের দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ইতিহাসে স্থান করে নেন। তিনি বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)-এর চেয়ারপারসন ও দলনেত্রী হিসেবে দীর্ঘদিন রাজনীতিতে সক্রিয় ছিলেন।
১৯৮১ সালের ৩০ মে এক সামরিক অভ্যুত্থানে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হওয়ার পর দলীয় নেতাকর্মীদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে ১৯৮২ সালের ৩ জানুয়ারি বিএনপিতে যোগ দেন খালেদা জিয়া। ১৯৮২ সালের ২৪ মার্চ তৎকালীন সেনাপ্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল হুসেইন মুহম্মদ এরশাদ রাষ্ট্রপতি বিচারপতি আব্দুস সাত্তারকে ক্ষমতাচ্যুত করে রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করলে দেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা তৈরি হয়।
১৯৮৩ সালের মার্চে খালেদা জিয়া বিএনপির সিনিয়র ভাইস চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। বিচারপতি সাত্তার অসুস্থ হয়ে পড়লে তিনি দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারপারসনের দায়িত্ব পালন করেন। পরে ১৯৮৪ সালের ১০ মে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বিএনপির চেয়ারপারসন নির্বাচিত হন। তার নেতৃত্বে কয়েক দশকে বিএনপি দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিকশিত হয়।
বেগম খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে দেশের রাজনৈতিক অঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। বিভিন্ন রাজনৈতিক দল, সামাজিক সংগঠন ও বিশিষ্টজনেরা তার মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করেছেন এবং মরহুমার রুহের মাগফিরাত কামনা করেছেন।